সন্দেশখালি কাণ্ড নিয়ে রাজ্য সরকারের কাছে রিপোর্ট তলব করল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। রাজনৈতিক সংঘর্ষে শনিবার সন্দেশখালিতে কতজনের মৃত্যু হয়েছে, তাঁদের পরিচয় কী এবং কী থেকে ঘটনার সূত্রপাত, এ সমস্ত বিষয় রাজ্যের কাছ থেকে জানতে চাইল অমিত শাহের মন্ত্রক। রবিবারই বিজেপি নেতা মুকুল রায়ের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল যাচ্ছে সন্দেশখালিতে। অন্যদিকে রাজ্যের মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের নেতৃত্বে তৃণমূলের প্রতিনিধি দলও সন্দেখালির ন্যাজাটে যাচ্ছে। 

শনিবার রাতে সন্দেশখালির ন্যাজাটে হাটগাছি গ্রামে পতাকা লাগানোকে কেন্দ্র করে তণমূল বিজেপি সংঘর্ষ বাঁধে। ঘটনায় অন্তত চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে একজন তৃণমূল সমর্থক, এবং তিনজন বিজেপি সমর্থক রয়েছেন। বিজেপি-র অবশ্য দাবি তাঁদের মোট পাঁচজন কর্মী খুন হয়েছেন। শঙ্কর মণ্ডল এবং দেবব্রত মণ্ডল নামে দুই কর্মীর দেহ পাওয়া যাচ্ছে না অভিযোগ বিজেপি-র। 

এই ঘটনার পরই শনিবার রাতে বিজেপি রাজ্যে নেতৃত্বের কাছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক থেকে ফোন করে ঘটনার তথ্য নেওয়া হয় বলে খবর। রবিবার সকালেই রাজ্যে সরকারের থেকেও সন্দেশখালি কাণ্ডের রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছে কেন্দ্র। 

ইতিমধ্যেই এই ঘটনা নিয়ে কেন্দ্রের মাধ্যমে রাজ্যের শাসক দলের উপরে চাপ বাড়াতে মাঠে নেমে পড়েছে বিজেপি রাজ্য নেতৃত্ব। রাজ্যের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিজেপি নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয় জানিয়েছেন, সন্দেশখালির ঘটনায় কেন্দ্রীয় সরকার কড়া পদক্ষেপ নেবেন বলেই তাঁরা আশাবাদী। অন্যদিকে বিজেপি নেতা মুকুল রায়ের অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের রাজ্যে ভয় এবং সন্ত্রাসের শাসন চালাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে গোটা বিষয়টি জানানো হয়েছে বলে দাবি মুকুলের। 

যদিও রাজনৈতিক হিংসা এবং প্রাণহানির জন্য বিজেপি-র দিকেই আঙুল তুলেছেন তৃণমূল মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি এ রাজ্য থেকে আঠারোটি আসন পাওয়ার পরেই এ রাজ্যে রাজনৈতিক হিংসা শুরু হয়েছে। গত আট বছরে এই পরিবেশ ছিল না বলেই দাবি পার্থর। দলের পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে সন্দেশখালি কাণ্ডের রিপোর্ট পাঠানো হচ্ছে বলেও দাবি পার্থর।