মাটির ঘরে রাত্রিবাস করতে করতেই শোনা যাবে সমু্দ্রের ঢেউয়ের গর্জন। তার  সঙ্গে একেবারে ঘরোয়া খাওয়া দাওয়া। উত্তরবঙ্গের কায়দায় এবার দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার গঙ্গাসাগর, বকখালি, পিয়ালী আইল্যান্ডের মতো সুন্দরবন লাগোয়া পর্যটনকেন্দ্রগুলিতে এবার হোম স্টে চালু করবে রাজ্য সরকার। ভোট প্রচারে গিয়ে সোমবার নামখানায় এমনই দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। 

লামাহাটা, লাতপাঞ্চার, লাভা, লোলেগাঁওয়ের মতো উত্তরবঙ্গের পর্যটন  কেন্দ্রগুলিতে বহুদিন ধরেই জনপ্রিয় হোম স্টে। পর্যটকদের মধ্যে জনপ্রিয় হওয়ায় সরকারি উদ্যোগে হোম স্টে তৈরি করে দেওয়ার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।. রাজ্যের পর্যটন দফতর এই প্রকল্প ররূপায়ণের দায়িত্বে রয়েছে। জায়গা থাকলে স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘর তৈরি করে দিচ্ছে রাজ্য সরকার। সেই ঘরই হোম স্টে হিসেবে ভাড়া দিয়ে উপার্জন করছেন বাড়ির মালিক।

সোমবার নামখানায় প্রচারে গিয়ে মমতা বলেন, এবারে এই হোম স্টে প্রকল্পই গঙ্গাসাগর, বকখালির মতো দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে একইভাবে সরকারি উদ্যোগে  হোম স্টে পরিষেবা গড়ে তুলবে রাজ্য সরকার। গঙ্গাসাগর, বকখালির মতো পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে ছুটির মরশুমে প্রচুর মানুষের ভিড় হয়। বিশেষত গঙ্গাসাগর মেলার সময় লক্ষ লক্ষ মানুষ ভিড় জমান গঙ্গাসাগরে। মমতা বলেন, পরিবার পিছু একটি ঘর তৈরি করতে দেড় লক্ষ টাকা করে দেবে রাজ্য সরকার। সেই ঘর হোম স্টে-র জন্য ভাড়া দিয়ে উপার্জন করতে পারবেন স্থানীয় বাসিন্দা। বাসিন্দাদের বাড়িতে যদি অতিরিক্ত ঘর থাকে, সেই ঘরও পর্যটকদের থাকার জন্য ভাড়া দেওয়া যাবে। মমতার কথায়, মাটির ঘর হলেও চলবে। 

যে কোনও পর্যটন কেন্দ্রেই ভিড়ের সময় হোটেলের ঘর পেতে গিয়ে বিপাকে পড়েন পর্যটকরা। অনেক সময় ঘর পাওয়া যায় না, পাওয়া গেলেও তা ভাড়া কয়েক গুন বাড়িয়ে দেওয়া হয়। ফলে জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে হোম স্টে চালু করা গেলে পর্যটকদের যেমন সুবিধে হবে, তেমনই ওই এলাকার বাসিন্দাদের বিকল্প উপার্জনের ব্যবস্থা করা যাবে। 

একই সঙ্গে গঙ্গাসাগরের সঙ্গে কাকদ্বীপের যোগাযোগের জন্য মুড়ি গঙ্গার উপরে সেতু তৈরির দাবি দীর্ঘদিনের। মমতার অভিযোগ, তাজপুরে বন্দর তৈরির বদলে ওই সেতু তৈরি করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও সেই কাজ করে দেয়নি কেন্দ্রীয় সরকার। মমতা দাবি করেন, ওই সেতু তৈরি করতে প্রায় দশ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন। কেন্দ্র সহযোগিতা না করায় রাজ্য সরকারই এবার নিজের উদ্যোগে এই সেতু তৈরি করবে বলে দাবি করেন মমতা। তবে সেতু তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় বিপুল অর্থ সংস্থান করে প্রকল্প বাস্তবায়িত করতে যে অন্তত চার থেকে পাঁচ বছর সময় লাগবে, তা স্বীকার করে নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। 

কাকদ্বীপ থেকে গঙ্গাসাগর যাওয়ার জন্য একমাত্র ভরসা মুড়িগঙ্গার উপর দিয়ে ভেসেলে পারাপার। কিন্তু নাব্যতা কমে যাওয়ায় অনেক সময়ই মাঝ গঙ্গায় আটকে যায় ভেসেল। গঙ্গাসাগর মেলার সময় সমস্যা চরমে পৌঁছয়। যা নিয়ে ওই এলাকার মানুষ এবং পর্যটকদের ক্ষোভ দীর্ঘদিনের। ইতিমধ্যেই বকখালি যাওয়ার জন্য হাতানিয়া-দোয়ানিয়া নদীর উপরে সেতু তৈরি হয়ে গিয়েছে। ফলে বকখালির সঙ্গে নামখানার সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন হয়েছে।