Hooghly BJP News: ভোটের দিনক্ষণ যত এগিয়ে আসছে ততই বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ। এবার তৃণমূলের অদ্ভূত দেওয়াল লিখন ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। রাজ্যের শাসক শিবিরকে তোপ হুগলির বিজেপি প্রার্থী সন্তু পানের। কী বলেছেন তিনি? বিস্তারিত জানতে পড়ুন সম্পূর্ণ প্রতিবেদন…

Hooghly BJP News: নির্বাচনী প্রচারের মাঝেই চড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ। দেওয়াল লিখনকে কেন্দ্র করে তৃণমূলকে কটাক্ষ বিজেপি প্রার্থী সন্তু পানের। তাঁর দাবি, তৃণমূল প্রার্থী রামেন্দু সিংহরায় ভয় পেয়ে গিয়েছেন, তাই তাঁর সমর্থকরাই এলাকায় ‘জর্দা পান’ লিখে প্রচার চালাচ্ছেন। প্রচারে বেরিয়ে এমন দেওয়াল লিখন নজরে আসতেই তীব্র প্রতিক্রিয়া দেন সন্তু পান। তিনি বলেন, “ভয় পেয়েছে তৃণমূল, তাই এই ধরনের লেখালিখি হচ্ছে।”

তৃণমূলের দেওয়াল লিখন নিয়ে পাল্টা তরজা বিজেপির:-

এখানেই থেমে থাকেননি বিজেপি প্রার্থী (BJP)। কৃষকদের প্রসঙ্গ তুলে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্যে আলুচাষীরা ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না। সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেন, “কৃষকদের সমস্যার সমাধান করতে পারছে না সরকার, আর এখন এই ধরনের দেওয়াল লিখন করে ভোটে টিকে থাকার চেষ্টা করছে।” ঘটনাকে ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। যদিও এ বিষয়ে তৃণমূলের তরফে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এদিকে, আরামবাগে মনোনয়ন ঘিরে তীব্র বিশৃঙ্খলা! উত্তপ্ত হয়ে ওঠে মহাকমা শাসক কার্যালয় চত্বর —প্রশাসনের গাফিলতিতে যানজট, ক্ষোভে ফুঁসছেন কর্মীরা। আরামবাগ মহকুমায় মনোনয়ন জমা দেওয়ার দিনেই প্রশাসনিক ব্যর্থতার নগ্ন চিত্র সামনে এল। আগে থেকেই জানা ছিল যে বিজেপির চার মনোনীত প্রার্থী আজ মহকুমা শাসক (এসডিও) কার্যালয়ে মনোনয়ন পত্র জমা দিতে আসবেন। তবুও ন্যূনতম পরিকল্পনার অভাবে কার্যত অচল হয়ে পড়ে আরামবাগ শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা।

মহকুমা শাসক কার্যালয়ের চত্বরে প্রার্থীরা পৌঁছতেই শুরু হয় তীব্র যানজট। গাড়ির দীর্ঘ লাইন, রাস্তায় নাজেহাল সাধারণ মানুষ—সব মিলিয়ে চরম দুর্ভোগের ছবি ধরা পড়ে। প্রশ্ন উঠছে, প্রশাসন কি আগে থেকে প্রস্তুত ছিল না? নাকি সব জেনেও ইচ্ছাকৃতভাবে এই পরিস্থিতি তৈরি হতে দেওয়া হলো?

Nabanna News: ভোটমুখি বাংলায় পুলিশ প্রশাসনে বড় রদবদল! ফের একগুচ্ছ IPS অফিসার বদলির প্রস্তাব

ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষোভে ফেটে পড়েন দলীয় কর্মী-সমর্থকরা। তাঁদের অভিযোগ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই যথাযথ ট্রাফিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এমনকি পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন থাকলেও কার্যত কোনো নিয়ন্ত্রণই চোখে পড়েনি বলে দাবি তাঁদের।

এই বিশৃঙ্খলার মধ্যেই পড়তে হয় মনোনীত প্রার্থী ও বিদায়ী বিধায়কদের। পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে দেখা যায় তাঁদের নিরাপত্তারক্ষীদেরও। প্রার্থীদের একাংশ সরাসরি প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের বক্তব্য, “যখন আগে থেকেই সব জানা ছিল, তখন কেন এই বিশৃঙ্খলা? এটা কি নিছক গাফিলতি, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে?”

সাধারণ মানুষের মধ্যেও ক্ষোভ স্পষ্ট। অফিসযাত্রী থেকে শুরু করে স্থানীয় বাসিন্দারা সবাই পড়েন চরম সমস্যায়। ফলে প্রশ্ন আরও জোরালো হচ্ছে—এভাবে কি চলবে নির্বাচন প্রক্রিয়া? প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়েও উঠছে বড় প্রশ্নচিহ্ন। মনোনয়ন পর্বের দিনেই এমন চিত্র সামনে আসায় রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। এখন দেখার, এই ঘটনার পর প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয় এবং আদৌ পরিস্থিতির উন্নতি হয় কিনা।

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।