BJP News: রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার আগে থাকতেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, মহিলাদের উপর কোনও ধরনের অত্যাচার মেনে নেওয়া হবে না। সরকার গঠনের পরেও বিজেপি-র পক্ষ থেকে একই বার্তা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেই বিজেপি-রই এক মণ্ডল সভাপতির বিরুদ্ধে দলেরই কর্মীকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারীরিক সম্পর্কের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
KNOW
West Bengal Crime News: দক্ষিণ হাওড়া ২ নম্বর মণ্ডল বিজেপি (BJP) সভাপতি আদিত্য সামন্তর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আনলেন এক মহিলা। তিনিও বিজেপি কর্মী। তাঁর অভিযোগ, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেছেন আদিত্য। তিনি বলেছিলেন, রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে এই মহিলাকে বাড়ি করে দেবেন এবং বিয়ে করে একসঙ্গে থাকবেন। নিজের ব্যবসার প্রয়োজনে তিনি এই মহিলার কাছ থেকে দু'লক্ষ টাকা এবং সোনার গয়না নিয়েছেন বলেও অভিযোগ। কিন্তু রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর এখন এই মহিলাকে এড়িয়ে চলছেন আদিত্য। তিনি হুমকি দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ। এই মহিলা যে টাকা, সোনার গয়না দিয়েছিলেন, সেসব ফেরত চেয়েও পাননি। তিনি আদিত্যর বিরুদ্ধে হাওড়ার সাঁকরাইল থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।

ন্যায়বিচার চাইছেন এই মহিলা
এই মহিলা দাবি করেছেন, 'আমার তিন মেয়ে। স্বামী অনেকদিন আগে আমাকে ছেড়ে চলে গিয়েছে। আমি ভাড়াবাড়িতে থাকি। আদিত্য সামন্তর সঙ্গে আমার যখন আলাপ হয়, তখন ও বিজেপি দক্ষিণ হাওড়া ২ নম্বর মণ্ডলের সভাপতি ছিল না। সাধারণ কর্মী বা নেতা ছিল। ও আমাকে বলে, বাড়ি করে দেবে। বিয়ের পর আমরা একসঙ্গে থাকব। আমি ওর কথায় বিশ্বাস করি। ওর দোকান আছে। সেই দোকানের প্রয়োজনে ও আমার কাছ থেকে দুই লক্ষ টাকা ও সোনার গয়না নেয়। ও আমার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে। কিন্তু আমি যখনই বিয়ের কথা বলি, ও এড়িয়ে যায়। ও মণ্ডল সভাপতি হওয়ার পর বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে। তারপর থেকেই ও আমাকে এড়িয়ে চলছে। আমাকে রাস্তায় হুমকিও দিয়েছে। আমিও বিজেপি কর্মী। ভোটের সময় বিজেপি-র হয়ে কাজ করেছি। আমি এখনও দলের উপর মহলে কাউকে কিছু জানাইনি। থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি। আমি সুবিচার চাই। আমি কানাঘুষো শুনেছি, আরও অনেক মেয়ের সঙ্গে এরকম করেছে আদিত্য। আমি ওর শাস্তি চাই।'

অন্যায়কে প্রশ্রয় নয়, বার্তা বিজেপি কর্মীদের
দলকে সরকারিভাবে কিছু না জানালেও, স্থানীয় বিজেপি কর্মীদের এই ঘটনার কথা জানিয়েছেন এই মহিলা। বিজেপি কর্মীরা জানিয়েছেন, তাঁরা অন্যায় মেনে নেবেন না। মণ্ডল সভাপতি যদি অপরাধ করে থাকেন, তাহলে তাঁর সাজা হওয়া উচিত। দল অন্যায়কে প্রশ্রয় দেবে না। এ বিষয়ে আদিত্যর সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা হলেও, তাঁর প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। সাঁকরাইল থানায় ফোন করা হলে এক মহিলা বলেন, 'পরে ফোন করুন। এখন স্যার নেই। এ বিষয়ে এখন কিছু বলতে পারব না।' এই ঘটনায় হাওড়ার রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।


