মোবাইল আনায় নিষেধাজ্ঞা। কিন্তু করোনার আতঙ্কে মাস্ক পরতে তো কোনও বাধা নেই। আর ঠিক এই জায়গায় দ্বন্দ্বে শিক্ষক থেকে শুরু করে পুলিশ সবাই।

বহু জায়গায় ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া সত্ত্বেও মাধ্য়মিকে এবারও রোখা যায়নি হোয়াটসঅ্য়াপে প্রশ্নফাঁস। তাই উচ্চমাধ্য়মিকে চলছে আরও কড়াকড়ি। পরীক্ষাকেন্দ্রের মধ্য়ে যাতে কোনওভাবে কেউ মোবাইল নিয়ে ঢুকতে না-পারে, তার জন্য় চলছে তল্লাশি।

এদিকে এই পরিস্থিতিতে করোনার আতঙ্ক ক্রমবর্ধমান। শুক্রবার থেকেই একেএকে রাজ্য়ের বিভিন্ন স্কুল সাময়িকভাবে ঝাঁপ বন্ধ করে দিচ্ছিল।  শনিবার রাজ্য় সরকার একেবারে ঘোষণাই করে দিল, সমস্ত স্কুল কলেজ অনির্দিষ্টকালের জন্য় বন্ধ থাকবে। যদিও নির্ধারিত দিনের পরীক্ষাসূচিতে কোনও হেরফের হবে না। এমতাবস্থায়, মাস্ক পরে পরীক্ষাকেন্দ্রে ঢুকছে পরীক্ষার্থীরা। এদিকে মাস্ক পরায় কেউ আপত্তি করতে পারছেন না। অথচ এই মাস্কের মধ্য়েই যদি কেউ কোনও কাগজপত্র লুকিয়ে আনে, তখন টুকলি আটকাবে কে?

বৈদ্য়ুতিন মাধ্য়ম বা গ্য়াজেটে আপত্তি করা হলেও, মাস্ক নিয়ে কার্যত কোনও ওজর আপত্তি তোলা যাচ্ছে না। এবার কি টুকলির জন্য় গ্য়াজেট বা হোয়াটসঅ্য়াপ ছেড়ে দিয়ে সাবেক প্রথায় চিরকূট নিয়ে গিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে কি টোকাটুকি শুরু হবে?

বৃহস্পতিবার  মেদিনীপুর কলেজিয়েট স্কুল পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রচুর পরিমাণে পুলিশ দিয়ে প্রতিটি ছাত্রছাত্রীকে পরীক্ষা করা হয়েছে। কাগজপত্র পরীক্ষার সঙ্গে সঙ্গে মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে তাদের কাছে কোন ধাতব জিনিস বা ডিজিটাল গ্য়াজেট ছিল কিনা তা তন্নতন্ন করে খোঁজার চেষ্টা হয়েছে। ডিজিটাল হাতঘড়ি পর্যন্ত খুলে নিয়ে নেওয়া হয়েছে। শালীনতা বজায় রেখে যতটা পরীক্ষা করা সম্ভব তাই করা হয়েছে। সেই পরীক্ষা পর্বেই দেখা গিয়েছে বহু ছাত্র-ছাত্রী মাস্ক পরে পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশ করেছে। অথচ করোনার সৌজন্য়ে কেউ তাদের আটকাতে পারেনি।

যদিও জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাক্তার গিরিশচন্দ্র বেরা জানিয়েছেন, " রাজ্যের অন্যান্য জায়গার সঙ্গে পশ্চিম মেদিনীপুরে নিশ্চিত করে করোনা আক্রান্ত কেউই নেই এখনও পর্যন্ত।" তবু সাবধানের তো আর মার নেই। তাই মাস্ক পরে পরীক্ষাকেন্দ্রে এসে কাউকে আটকানোর কোনও জায়গাই নেই।