এবারের নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি-র প্রার্থী তালিকায়  অন্যতম বড় চমক ছিল তাঁর নাম। কিন্তু প্রচারের শুরু থেকেই বিতর্কে প্রাক্তন আইপিএস অফিসার ভারতী ঘোষ। এ বার নির্বাচনী বিধি বহির্ভূতভাবে ভারতীর গাড়ি থেকে উদ্ধার হল লক্ষাধিক টাকা। সেই সময়ে গাড়িতেই ছিলেন বিজেপি প্রার্থী ভারতী।

বৃহস্পতিবার রাতে এই ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলায়। আগামী রবিবার পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটালে নির্বাচন। ওই কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের প্রার্থী অভিনেতা দেবের বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছেন ভারতী। তার আগে এই ঘটনায় বেজায় অস্বস্তিতে বিজেপি. ভারতীর অবশ্য অভিযোগ, তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে। নিয়ম মেনেই তিনি টাকা নিয়ে যাচ্ছিলেন বলে দাবি বিজেপি প্রার্থীর। 

জেলায় নির্বাচনের আগে নিয়ম মেনেই বৃহস্পতিবার রাতে পিংলায় বিভিন্ন গাড়ি তল্লাশি করছিল পুলিশ। সেই সময়ে পুলিশি তল্লাশি এড়িয়ে ভারতীর গাড়ি বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ। ধাওয়া করে সেই গাড়ি ধরে পুলিশ। তল্লাশিতে গাড়ির ভিতর থেকে এক লক্ষ তেরো হাজার টাকা উদ্ধার হয় বলে অভিযোগ। নির্বাচনের সময় এক সঙ্গে পঞ্চাশ হাজার টাকা সঙ্গে রাখা যায় না। ভারতী অত টাকা সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার যথাযথ ব্যাখ্যাও দিতে পারেননি বলে খবর। এর পরেই তাঁকে আটক করে টাকা বাজেয়াপ্ত করে পুলিশ। যদিও পরে নিয়ম মেনে মামলা দায়ের করে ভারতীকে ছেড়ে দেওয়া হয়। 

ভারতীর অবশ্য দাবি, তিনি ব্যাঙ্কের থেকে ওই টাকা তুলেছিলেন, সেই কাগজও তিনি দেখিয়েছেন।  তাঁর আরও যুক্তি, গাড়িতে চারজন ছিলেন। সেই অনুযায়ী মাথাপিছু পঞ্চাশ হাজার টাকা করে রাখা যায় বলে দাবি করেছেন ভারতী এবং তাঁর সতীর্থরা। কিন্তু পুলিশ সেই যুক্তি মানতে চায়নি বলে অভিযোগ ভারতীর।  শুধু তাই নয়, গাড়ির আরোহী বাকিদের সিজার লিস্টে সই করতে না দিয়ে শুধু ভারতী সই করার জন্য পুলিশ চাপ দেয় বলেও অভিযোগ বিজেপি প্রার্থীর।  সেই কারণেই তিনি সিজার লিস্টে সই করেননি বলে জানিয়েছেন বিজেপি প্রার্থী। 

স্বভাবতই এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে মাঠে নেমেছে তৃণমূল। তৃণমূলের অভিযোগ, ভোটারদের মধ্যে বিলি করার জন্যই ওই টাকা নিয়ে যাচ্ছিলেন বিজেপি প্রার্থী। ঘটনার পরেই স্থানীয় তৃণমূল নেতা, কর্মীরা ভারতীকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। ভারতীর প্রার্থীপদ বাতিলের দাবি জানিয়ে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হচ্ছে শাসক দল।

এর আগে তৃণমূল কর্মীদের পিটিয়ে মারার হুমকি দেওয়ার ঘটনাতেও ভারতীর পাশেই দাঁড়িয়েছিলেন দলের সভাপতি দিলীপ ঘোষ। টাকা উদ্ধারের ঘটনায় অবশ্য ভারতীকে সমর্থন করেননি তিনি। বরং এর দায়িত্ব নিতে নারাজ দল। দিলীপের সাফ কথা, বিধি ভেঙে অত টাকা নিয়ে যাওয়া উচিত হয়নি ভারতীর। এতেই স্পষ্ট, ভারতীর ভূমিকায় খুশি নয় দলীয় নেতৃত্ব। এই ঘটনায় তড়িঘড়ি শুক্রবার ভারতীর সঙ্গে বৈঠকে বসছেন দিলীপ। খড়্গপুরে এই বৈঠক হওয়ার কথা। সেই বৈঠকে নির্বাচনের সময় বিধিনিষেধ মেনে চলা এবং ভাবমূর্তি ঠিক রাখার জন্য ভারতীকে সতর্ক করা হতে পারে। 

ভোট প্রচারে বেরিয়ে কখনও পুলিশ, আবার কখনও তৃমমূল কর্মীদের হুমকি দিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছেন ভারতী। তাঁর বিরুদ্ধে দাসপুর সোনা প্রতারণা মামলায় তদন্ত করছে সিআইডি-ও। আগের ঘটনাগুলির ক্ষেত্রেকে দলকে পাশে পেলেও এবার অবশ্য দলেই কোণঠাসা বিজেপি প্রার্থী।