ভরতপুর থানার ওসি-কে দলীয় সভামঞ্চ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বদলির হুমকি দিয়েছিলেন তিনি। যা নিয়ে দলের ভিতরে ও বাইরে বিস্তর বিতর্কের বিতর্কের মুখে পড়েন হুমায়ন। এবার তার বিরুদ্ধে খোদ পুলিশ অভিযোগ দায়ের করায় নতুন করে পড়ে গিয়েছে শোরগোল।

প্রকাশ্য জনসভায় ওসিকে হুমকি দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত দুদিন ধরেই উত্তপ্ত মুর্শিদাবাদের রাজ্য-রাজনীতি। বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের(Trinamool MLA Humayun Kabir)২৪ তারিখ দেওয়া ভাষণেরসেই ভিডিও ইতিমধ্যেই ভাইরালও হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়(Social Media)। এবার সেই ভিডিওকে হাতিয়ার করেই ভরতপুর থানায়(Bharatapur Police station) স্বতঃপ্রণোদিত অভিযোগ দায়ের করেছে পুলিশ(Police)। আর তা নিয়েই নতুন করে সরগরম বাংলার রাজ্য-রাজনীতি(West Bengal Politics)। এই ভরতপুর থানার ওসি-কে দলীয় সভামঞ্চ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বদলির হুমকি দিয়েছিলেন তিনি। যা নিয়ে দলের ভিতরে ও বাইরে বিস্তর বিতর্কের বিতর্কের মুখে পড়েন হুমায়ন। এবার তার বিরুদ্ধে খোদ পুলিশ অভিযোগ দায়ের করায় নতুন করে পড়ে গিয়েছে শোরগোল।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

এদিকে ঘটনার সূত্রপাত ভরতপুর এলাকায় তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বিরোধকে কেন্দ্র করে। জানা যায়,আগামী ১ জানুয়ারি মুর্শিদাবাদের ভরতপুরে তৃণমূলের প্রতিষ্ঠা দিবস(TMC establishment day) পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন স্থানীয় নেতা-নেত্রীরা। আর সেই কারণেই হুমায়ুন কবিরের ঘনিষ্ঠ ভরতপুরের যুব তৃণমূল সভাপতি নজরুল ইসলাম দলের প্রতিষ্ঠা দিবস পালনে সভা করার জন্য পুলিশের কাছে অনুমতি নিতে থানায় যান।কিন্তু পুলিশের সাফ বক্তব্য ছিল ইতিমধ্যেই তৃণমূলকে প্রতিষ্ঠা দিবসে সভা করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তাই নতুন করে সভা করার অনুমতি দেওয়া আর সম্ভব নয়। আর তাতেই হুমায়ুনের চক্ষুশূল হন ওসি রাজু মুখোপাধ্যায়। এদিকে ভরতপুর থানার ওসি রাজু মুখোপাধ্যায় গত ফেব্রুয়ারিতে উত্তর ২৪ পরগনার ভাটপাড়া থানা থেকে বদলি হন। হুমকি বর্ক্তৃতায় রাজুকে ফের ভাট পাড়ায় পাঠিয়ে দেওয়ার কথাও বলতে দেখা যায় মুর্শিদাবাদের এই বিতর্কিত বিধায়ককে।

আরও পড়ুন-চলছে জোরকদমে প্রস্তুতি, চার পুরনিগমে প্রার্থী তালিকা নিয়ে বৈঠকে মমতা

ওইদিন হুমায়ুন কবীরকে বলতে শোনা যায়, “আমি জেলা তৃণমূল নেতাদের তোয়াক্কা করি না। এলাকার তৃণমূল নেতা, থানার ওসি কাউকে পাত্তা দিই না। প্রয়োজনে আমি বেআইনি কাজ করতেও পিছপা হব না।পুলিশ যদি পায়ে পায়ে পা দিয়ে ঝগড়া করতে আসে, তাহলে আমাকে তার জবাব দিতে হবে। টেবিলের উপর পা দিয়ে দাঁড়িয়ে যাবো। ওই থানার কর্তব্যরত পুলিশেরা তখন বুঝবে হুমায়ুন কবীর কী জিনিস।যদিও পরবর্তীতে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগই অস্বীকার করেন তিনি। পরবর্তীতে এই প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে তিনি দাবি করেন, পুলিশকে কিছু বলা হয়নি, বেকার কথা। ফাউন্ডেশেন ডে থানার সামনে পালন করব বলেছিলাম, তখন ওসি বলেছিলেন ওদের ওই জায়গাটা ছেড়ে দিন, আপনারা অন্য জায়গায় করুন।কিন্তু আমাদের দাবি ওরা একথা বলতে পারে কী করে? ”