একমাত্র সন্তানের আগেই মৃত্যু হয়েছিল। তার পর মৃত্যু হয়েছিল স্ত্রীরও। একাকীত্বের হতাশা থেকেই স্ত্রীর মৃত্যুর চার বছর পর তাঁর ছবি বুকে ঝুলিয়ে আত্মঘাতী হলেন এক যুবক। মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার বিষ্ণুপুর থানার বাখরাহাট এলাকায়। 

স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, মৃত ব্যক্তির নাম সমীর হালদার (৪২)। সমীরবাবুর স্ত্রী চার বছর আগে তাঁর স্ত্রী হৃদরোগের আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তারও আগে অসুস্থতার কারণে দম্পতির একমাত্র সন্তানও মারা গিয়েছিল। স্ত্রী, সন্তানকে হারিয়ে সমীরবাবু মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন বলে জানিয়েছেন প্রতিবেশীরা। তার জেরেই তিনি আত্মঘাতী হয়েছেন বলে অনুমান করা হচ্ছে। পুলিশ এসে যখন তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে, তখনও সমীরবাবুর গলায় ঝোলানো ছিল মৃত স্ত্রীর ছবি। 

আরও পড়ুন- অভাবের তাড়নায় সন্তানকে বিক্রি, গৃহবধূর কীর্তিতে শোরগোল কোন্নগরে

আরও পড়ুন- দেড় বছরের মেয়েকে নিয়ে আত্মঘাতী গৃহবধূ, ঘটনায় চাঞ্চল্য় নদিয়াতে

বাখরাহাট বাজারের একটি বাড়িতে একাই ভাড়া থাকতেন সমীর হালদার। বেশ রাত করেই প্রতিদিন বাড়ি ফিরতেন তিনি। আবার সকালে বেরিয়ে যেতেন। এ দিন বেলা পর্যন্ত তিনি ঘর থেকে না বেরনোয় বাড়ির মালিকের সন্দেহ হয়। জানলা দিয়ে উঁকি মেরে তিনি দেখেন, গলায় দড়ি দিয়ে ঘরের মধ্যে আত্মঘাতী হয়েছেন ওই ব্যক্তি। তাঁর গলায় ঝোলানো রয়েছে মৃত স্ত্রীর দেহ।

এর পর বাড়ির মালিকই বিষয়টি প্রতিবেশীদের জানান। খবর দেওয়া হয় স্থানীয় পঞ্চায়েত এবং থানায়। পুলিশ এসে দরজা ভেঙে দেহটি উদ্ধার করে। সমীরবাবুর দেহ যখন ভ্য়ানে করে ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তখনও তাঁর বুকের উপরে রাখা হয়েছে স্ত্রীর সেই ছবিটি।