বাংলা থেকে অন্তত কুড়ি থেকে তেইশটি আসনে জেতার দাবি জানাচ্ছেন বিজেপি-র রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় নেতারা। কিন্তু তার মধ্যেই বিজেপি-কে ফের সাংগঠনিক ধাক্কা দিলেন মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নিজের খাসতালুক পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথিতে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিলেন শতাধিক কর্মী-সমর্থক। 

শনিবার কাঁথি শহরে বিজেপি কর্মী সর্মথকরা রাজ্যের পরিবহণ ও পরিবেশ মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে তৃণমূলে যোগদান করেন

। দলে যোগ দেওয়া বিজেপি কর্মীদের হাতে তৃণমূলের  পতকা তুলে দেন মন্ত্রী। যেখানে উপস্থিত ছিলেন কাঁথি পুরসভার পুরপ্রধান সৌমেন্দু অধিকারী- সহ কাউন্সিলারবৃন্দ। 

শুভেন্দু অধিকারী জানান, ভুলবোঝাবুঝির জেরে কিছু পুরনো কর্মী দল ছেড়েছিলেন। অধিকারী পরিবারের সঙ্গে তাঁদের অনেক দিনের সম্পর্ক। তৃণমূলে যোগ দেওয়া  কর্মীদের মধ্যে রয়েছেন কাঁথি জেলা বিজেপির সম্পাদক এবং দক্ষিণ কাঁথি বিধানসভা কেন্দ্রের পর্যবেক্ষক তুষারকান্তি বিশ্বাস।

আগামী বারো মে পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথি এবং তমলুক কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ। এবারেও কাঁথি কেন্দ্র থেকে লড়ছেন প্রবীণ তৃণমূল নেতা শিশির অধিকারী। শুভেন্দু অধিকারী রাজ্য মন্ত্রীসভার সদস্য হওয়ার পরে তমলুকের সাংসদ নির্বাচিত হন তাঁর ভাই দিব্যেন্দু অধিকারী। উপনির্বাচনে জেতার পরে লোকসভা ভোটেও তাঁকেই প্রার্থী করেছে দল। ফলে জেলার দু'টি আসনই অধিকারী পরিবারের দখলে রাখাই শুভেন্দু চ্যালেঞ্জ। বহরমপুরে অধীর চৌধুরীকে হারানোর দায়িত্ব বকলমে শুভেন্দুর উপরেই দিয়ে রেখেছিলেন মমতা। মালদহ, উত্তর দিনাজপুরের মতো জেলাতেও দলের হয়ে দায়িত্বে রয়েছেন তিনি। ওই সমস্ত এলাকার লোকসভা কেন্দ্রগুলিতে ভোট মিটে যাওয়ার পরে এবারে পুরোদমে নিজের জেলায় মনোনিবেশ করেছেন পরিবহণমন্ত্রী। অধিকারী গড়ে পদ্ম ফুটতে না দেওয়াই এবার শুভেন্দুর চ্যালেঞ্জ।

শুভেন্দুর দাবি, এই যোগদানের ফলে জেপির কাঁথি নগর মণ্ডল কার্যত তৃণমূলে মিশে গেল। এই এলাকায় বিজেপির আর কোনও অস্তিত্ব রইল না বলেও দাবি করেন মন্ত্রী। তিনি জানান, যাঁরা দলে এলেন তাঁরা যাতে প্রাপ্য সম্মান পান তা দেখা হবে।

 

বিজেপি থেকে তৃণমূলে আসা তুষারকান্তি বিশ্বাস বলেন, বিজেপির কাঁথি সাংগঠনিক জেলা গোষ্ঠীদন্দ্ব ও অন্তর্কলহে ভর্তি। নির্বাচনের আগে তাই তাঁরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এরই পাশাপাশি এ দিন শিশির অধিকারীর হাত ধরেও শতাধিক বিজেপি কর্মী তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। শিশিরবাবু তাঁদের হাতে তৃণমূলের দলীয় পতাকা তুলে দিয়েছেন। 

অন্যদিকে, এই ঘটনার বিষয়ে কাঁথি সাংগঠনিক জেলার বিজেপি সভাপতি তপন মাইতি বলেন, গণতন্ত্রে সবার সব দল করার অধিকার আছে। কেউ নিজের ইচ্ছেয় দল বদল করলে তাঁরা বাধা দেবেন না বলে দাবি করেন ওই বিজেপি নেতা।
 ভোটের প্রচারে সোমবারই জেলায় আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী. তার আগে দলে এই ভাঙন জেলা বিজেপি-র কাছে অবশ্যই বড় ধাক্কা। শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, ভোটের দিন এগিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে বিজেপির আরও নেতা- কর্মী তৃণমুলে যোগ দেবেন।