শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে বধূ নির্যাতনের অভিযোগ নতুন নয়। এই অত্যাচারের বলি হয়েছে অনেক নিরীহ প্রাণ। দুর্গাপুরের অজয় শাসমল অবশ্য ব্য়তিক্রমী চরিত্র। এই স্রোতের বিপরীতে হেঁটে নিজের ছেলের বউকে বিয়ে দিলেন দাঁড়িয়ে থেকে। 

বছর সাতেক আগের ঘটনা। দুর্গাপুরের বণিক মোড়ের বাসিন্দা অজয়বাবু ছেলের বিয়ে দিয়েছিলেন পূর্ব মেদিনীপুরের দুবাই গ্রামের দেবশ্রীর সাথে। সেই সময় অজয় বাবু বেসরকারি এক সংস্থার পরিবহণ কর্মী ছিলেন। তার আয়ের ওপর নির্ভর করেই চলতো গোটা সংসার। ছেলের বিয়ে দেওয়ার পর বণিক মোড়ের কাছে একটি দোকান করে দিয়েছিলেন ছেলেকে। কিন্তু বিয়ের কিছুদিন পর ছেলে এক দুর্ঘটনায় স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলে। অনেক চিকিৎসার পরও ছেলে আর সুস্থ হয়নি।

বছর তিনেক আগে দোকানের মধ্যেই বিষ খেয়ে আত্মঘাতী হয় অজয় বাবুর ছেলে। তখন থেকেই একমাত্র নাতি আর পুত্রবধূকে নিজের আত্মিক সম্পর্কে ছাড়তে চাননি এই মানুষটি। আর বুধবার সেই পুত্রবধূকে নিজে দাঁড়িয়ে থেকে বিয়ে দিয়ে প্রমাণ করলেন এখনও এই সমাজের সবকিছু অন্ধকারে ঢেকে যায়নি। এলাকার বাসিন্দারা জানান,যখন পরিবহণ সংস্থার কর্মী ছিলেন, তখনই পরিচয় হয় সন্তোষ নায়েক নামে একটি ছেলের সাথে। চব্বিশ বছরের ছোটো মেয়ে তাদের মৃত্যুর পর কী হবে নাতি আর পুত্রবধূর ভবিষৎ, এই ভেবেই দিন কাটছিল অজয়বাবুর। শেষমেশ সন্তোষকেই প্রস্তাব দেন অজয়বাবু। পুত্রবধুকে বিয়ে করে একটা নিশ্চিত সুন্দর ভবিষ্যত দেওয়ার আর্জি জানান তাঁকে।

আর এই প্রস্তাবে রাজিও হয়ে যান সন্তোষ। বুধবার পেয়ালা কালীমন্দিরে নিজে দাঁড়িয়ে থেকে পুত্রবধূকে বিয়ে দিলেন তিনি। এখানেই শেষ নয় মেয়ের বাবা-মা উপস্থিত থাকলেও কন্যা সম্প্রদানের কাজটাও করলেন দায়িত্ব নিয়ে। শ্বশুরমশাই তাকে মেয়ের মতো করে নয়,শুধু মেয়ে বলেই মনে করে। বিয়ের পর এই প্রতিক্রিয়ায় দিলেন দেবশ্রী শাসমল (নায়েক )।

চোখের জল আটকাতে না পেরে বছর চব্বিশের দেবশ্রী বললেন, কখনও কোনওরকম কষ্ট দেননি শ্বশুরমশাই। আর মা-বাবা রয়েছেন অনুষ্ঠানে। কিন্তু শ্বশুরমশাই যখন কন্যাদানের অনুষ্ঠান করছিলেন, তখন একবারও মনে হয়নি আমি পুত্রবধূ। শুধু মনে হয়েছে, বাবা হিসেবে যে দায়িত্ব পালন করার কথা ছিল, সেই দায়িত্ব নিঃশব্দে পালন করে গেলেন মানুষটি।