রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা  'জুতো আবিষ্কার' আমরা অনেকেই পড়েছি। কবিগুরু বুঝিয়েছেন, রাজার পা ধূলিমুক্ত রাখতেই জুতোর জন্ম। এবার মেয়েদের সামাজিক সুরক্ষার কথা চিন্তা করে এক অভিনব জুতো আবিষ্কার করলেই রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অশিক্ষক কর্মী।

অভিনব এই জুতোর মধ্যে রয়েছে জিপিএস সিস্টেম। যার সাহায্যে সহজেই ট্র্যাকিং করার পাসাপাশি থাকবে ছয়শো ভোল্টের এ সি কারেন্ট, যার এক গুঁতোতে কুপোকাৎ হবে দুষ্কৃতীরা। 

মেয়েদের আত্মরক্ষার জন্য এমনি এক সেফটি শু আবিষ্কার করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থিবদ্যা বিভাগের অশীক্ষক কর্মী বাপ্পা রায়। আর তাঁকে এই আধুনিক জুতো আবিষ্কারের কাজে সাহায্য করেছেন পদার্থবিদ্যা বিভাগের পড়ুয়া পুলক পাল, প্রতীম ঘোষ, সাইরিন শবনম, জাহাঙ্গীর আলম, উৎসব রায়, সায়ন সাহা ও প্রিয়াঙ্গা পালরা।

 

 

রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের অশিক্ষককর্মী বাপ্পা রায়ের এই সেফটি শু-এর দামও থাকছে সাধ্যের মধ্যেই। মাত্র সাড়ে তিনশো থেকে চারশো টাকা খরচা করলেই পাওয়া যাবে এই জুতো। তাই পথেঘাটে বিপদে পড়লে এবার মেয়েরা অনায়াসেই এই সেফটি জুতো দিয়ে আত্মরক্ষা করতে পারবে। শুধু তাই নয় এি জুতোর সাহায্যে সহজেই লোকেশন ট্র্যাক করতে পারবে পুলিশও। 

বর্তমান পরিস্থিতিতে মেয়েদের আত্মরক্ষা জন্য এই জুতো খুব জরুরী বলে মনে করেন বাপ্পা রায়। ইতিমধ্যে তাঁর তৈরি এই জুতো আলোড়ন ফেলে দিয়েছে গোটা শহর জুড়ে। রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই সেফটি সু যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে খুলতে চলা ডিআরডিও সেন্টারেও পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে। 

রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ্যা বিভাগের কর্মী বাপ্পা রায় ও তার সহযোগী ছাত্রছাত্রীদের তৈরি  'সেফটি সু'  কীভাবে মেয়েদের আত্মরক্ষায় সাহায্য করবে সেটা জেনে নেওয়া যাক! অভিনব এই জুতোর আবিষ্কারক বাপ্পা  জানালেন,  উচ্চমানের ভোল্টেজের সাথে এই জুতোর মধ্যে জিপিএস সিস্টেম বসিয়ে খুব সহজে ট্র‍্যাকিং করার সুযোগ থাকছে। জুতোর আভ্যন্তরীণ সার্কিটে লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারির সাড়ে চার ভোল্টকে কমপক্ষে ছয়শো ভোল্টের পরবর্তী ভোল্টেজে ( এসি)  রুপান্তর করা যাবে। আর এই ছয়শো ভোল্টের জুতোর ধাক্কা খাওয়ার পর কোনও দুস্কৃতীই আর মেয়েদের  ধারেকাছে ঘেষবে না বলেই আশাবাদী তিনি। 

বিস্ময়কর ব্যাপার হল  সার্কিটটি তৈরি করতে খরচ হয়েছে মাত্র ১৪০ টাকা। সার্কিটের ভেতরে রয়েছে ডায়োড, ট্র‍্যানজিস্টর, ট্র‍্যান্সফরমার, রোধ। সার্কিটটি জুতোর ভেতর বসানো থাকবে। আর সেখান থেকে কিছু ধাতব তার জুতোর বাইরের গায়ে লেগে থাকবে।  ওই তারগুলোয় থাকবে উচ্চমানের ভোল্টেজ।  একটি ফুল চার্জের ব্যাটারি শুরুতেই এক হাজার ভোল্টের ধাক্কা দিতে সক্ষম হবে। ব্যাটারি চার্জিং  হবে হাঁটতে হাঁটতেই। জুতোর ভিতরে থাকা সুইচটি দরকারের সময় অন করে দিলেই উদ্দেশ্য সফল করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি জুতোটিতে ব্যবহার করা হয়েছে এক ধরনের বিশেষ সেন্সর।  যার সাহায্যে  রাস্তায় চলার সময় কোনও বাধাবিপত্তি থাকলে জুতো থেকে বিশেষ সিগন্যাল আসতে থাকবে। পরবর্তীতে এই সেফটি শু-এর আপগ্রেডেশন করে নতুন নতুন ফিচার যোগ করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানালেন আবিষ্কারক বাপ্পা রায়।

রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ্যা বিভাগের প্রধান ডঃ পিনাকি চক্রবর্তী বলেন, খুবই প্রাসঙ্গিক এই জুতো সাহায্যে মেয়েরা বিশেষ ভাবে  উপকৃত হবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দূর্লভ সরকার বলেন, বর্তমান সময়ে এই সেফটি  শু-এর  ব্যবহার মেয়েদের জন্য খুবই উপযোগী ।  বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীরা জানিয়েছেন,  পথে চলাফেরা করতে গিয়ে অনেক সময়ই বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। এই সেফটি শু আবিষ্কারে কিছুটা নিশ্চিত হওয়া গেল।