West Bengal News: জলপাইগুড়ি জেলার বানারহাটে বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কের জেরে একই পরিবারের তিনজনের রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। অভিযোগ, এক ব্যক্তি স্ত্রীকে খুন করার পর আত্মঘাতী হয়েছেন। এরপর ওই ব্যক্তির ভাইয়ের দেহও উদ্ধার হয়েছে। বাবা-মাকে হারিয়ে দিশেহারা দম্পতির একমাত্র ছেলে।
KNOW
West Bengal Police: বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কের সন্দেহের জেরে চরম পরিণতি। মাত্র তিনদিনের ব্যবধানে একই পরিবারের তিনজনের রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়াল জলপাইগুড়ি জেলার বানারহাট থানার পশ্চিম দুরামারি অঞ্চলে। পুলিশ একে একে উদ্ধার করেছে এক গৃহবধূ, তাঁর স্বামী এবং দেওরের মৃতদেহ। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পশ্চিম দুরামারির বাসিন্দা বিমল রায় (৪৫) দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর স্ত্রী চুমকি রায়ের (৩৬) সঙ্গে নিজের ভাই সনাতনের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক রয়েছে বলে সন্দেহ করতেন। এই নিয়ে পরিবারে নিত্য অশান্তি লেগে থাকত। ঘটনার দিন চুমকিদেবী বাড়ি থেকে বের হলে বিমলবাবু তাঁর পিছু নেন। এরপরই নিখোঁজ হয়ে যান দু'জনে। পরবর্তী সময়ে ছেলের মোবাইল ফোনে পাঠানো একটি ভয়েস মেসেজে বিমল দাবি করেন, তিনি স্ত্রীকে খুন করেছেন এবং নিজেও আত্মহত্যা করতে চলেছেন।
পরপর মৃতদেহ উদ্ধার
তল্লাশি শুরু হওয়ার পর প্রথমে মোরাঘাট জঙ্গলের মধুবনী সেতুর কাছ থেকে চুমকির ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ উদ্ধার হয়। তার পরদিনই ওই জঙ্গল থেকেই তাঁর স্বামী বিমলের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই জোড়া মৃত্যুর রেশ কাটতে না কাটতেই, পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পশ্চিম দুরামারির রাঙাতি মহাশ্মশানের একটি গাছ থেকে বিমলের ভাই সনাতনের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হওয়ায় স্থানীয় অঞ্চলে শোরগোল পড়ে যায়। স্থানীয়দের অনুমান, দাদা ও বৌদির মৃত্যুর পর মানসিক অবসাদ থেকেই আত্মঘাতী হয়েছেন সনাতন। বানারহাট থানার পুলিশ তিনটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলাই রুজু করে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে।
সালিশি সভাতেও মেটেনি সমস্যা
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিমল ব্যবসা করতেন। একটি ব্যাটারির দোকান ছিল তাঁর। স্ত্রী চুমকি এবং একমাত্র ছেলে বিরাজকে নিয়ে ছিল তাঁদের ছোট্ট সংসার। তবে দীর্ঘদিন ধরেই দম্পতির মধ্যে অশান্তি চলছিল। অভিযোগ, সনাতনের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন চুমকি। যা নিয়ে সংসারে চরম অশান্তি তৈরি হয়। একাধিকবার গ্রামে সালিশি সভা হয় সমস্যা মেটাতে। স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য রতন রায় জানান, বহুবার বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা হলেও কোনও স্থায়ী সমাধান হয়নি। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও বেড়ে যায়। এরই পরিণতিতে তিনজনের প্রাণ গেল।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।


