উত্তম দত্ত, হুগলি: লালারস পরীক্ষা করিয়েছিলেন, কিন্তু রিপোর্ট আসা পর্যন্ত আর অপেক্ষায় করেননি। শহিদ দিবসের সভায় যোগ দিয়ে দলের সাংসদ, অন্য বিধায়ক ও নেতা-কর্মীদেরও বিপদে ফেললেন হুগলির জাঙ্গিপাড়ার বিধায়ক স্নেহাশিষ চক্রবর্তী। তাঁর তো বটেই, নাবালক পুত্র, শ্বশুর-শাশুড়ি, এমনকী গাড়ির চালকেরও করোনা পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে বলে সূত্রের খবর। হোম কোয়ারেন্টাইনে চলে গিয়েছেন শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্য়াণ বন্দ্যোপাধ্যায়, চণ্ডীতলার বিধায়ক স্বাতী খন্দেকর, জেলা সভাপতি দিলীপ যাদব-সহ তৃণমূলের অনেকেই।

আরও পড়ুন: ভার্চুয়াল সভা শেষে পতাকা তুলতে 'বাধা', দলের কর্মীদের বিক্ষোভের মুখে তৃণমূল বিধায়ক

হুগলির জাঙ্গিপাড়া কেন্দ্রের বিধায়ক তিনি। কোন্ননগরের কানাইপুর পঞ্চায়েত এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে থাকেন তৃণমূল নেতা স্নেহাশিষ চক্রবর্তী। দিন কয়েক হঠাৎ-ই সামান্য জ্বর আসে তাঁর। আর দেরি করেননি, করোনা সন্দেহে লালারস বা সোয়াব পরীক্ষা করান বিধায়ক। করোনা পজিটিভি রিপোর্ট আসে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পর। এর আগে সকালে হুগলির চণ্ডীতলায় জায়ান্ট স্ক্রিনে শহিদ দিবসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভার্চুয়াল সভা দেখানোর ব্যবস্থা করা হয় যুব তৃণমূলের পক্ষ থেকে। সেই অনুষ্ঠানে সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, স্থানীয় বিধায়ক স্বাতী খন্দেকর, জেলা সভাপতি দিলীপ যাদব, পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ সুবীর মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে হাজির ছিলেন জাঙ্গিপাড়ার বিধায়ক স্নেহাশিষ চক্রবর্তীও।  

হুগলি জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ ও তৃণমূল নেতা সুবীর মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, সভায় যাঁরা উপস্থিত ছিলেন, তাঁরা সকলেই বাড়িতে রয়েছেন, চিকিৎসকদের পরামর্শ নিচ্ছেন। তিনি নিজেও চিকিৎসকদের পরামর্শে শনিবার পর্যন্ত হোম আইসোলেশনে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এরমধ্যে যদি উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে করোনা পরীক্ষাও করিয়ে নেবেন। এদিকে বিধায়ক স্নেহাশিষ চক্রবর্তীর বাড়ি জীবাণুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্থানীয় কানাইপুর পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ। পঞ্চায়েত প্রধান আচ্ছালাল যাদব বলেন,  করোনা নেগেটিভ হলে অনেক সময় রিপোর্ট আর আসেনি। বিধায়ক হয়তো তেমনটাই ভেবেছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে।

আরও পড়ুন: কোচবিহারে করোনা ছোবল, আক্রান্ত বিধায়ক উদয়ন গুহ

করোনা টেস্টের রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত কেন ঘরবন্দি থাকলেন না? তৃণমূল বিধায়কের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্ব। তাদের কটাক্ষ, যাঁরা সরকারে আছে, তাঁদের উচিত মানুষকে সচেতন করা। কিন্তু রাজ্য়ের এক বিধায়ক এমন কাজ করলেন যাতে সাধারণ মানুষের বিপদ আরও বাড়ল।