করোনা আতঙ্কে এবার ২১ জুলাই-এ ভিড় ছিল না ধর্মতলায়। শহিদ দিবসে ভার্চুয়াল জনসভা করলেন তৃণমূলনেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সভা শেষে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়লেন তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা। স্লোগান উঠল দলেরই বিধায়কের বিরুদ্ধে। ধুন্ধুমারকাণ্ড হুগলির চণ্ডীতলায়।

আরও পড়ুন: করোনা মোকাবিলা নয়া পদক্ষেপ, বৈদ্যুতিন চুল্লিতে দেহ সৎকারের সিদ্ধান্ত প্রশাসনের

ঠিক কী ঘটনা ঘটেছে চণ্ডীতলায়? দিন কয়েক আগে আমফানের ত্রাণ বণ্টনে দুর্নীতির অভিযোগে স্থানীয় গরলগাছা পঞ্চায়েতের প্রধান মনোজ সিং-কে বহিষ্কার করেছে তৃণমূল। সেই মনোজকে সঙ্গে নিয়েই খোদ তৃণমূল বিধায়ক স্বাতী খন্দেকার শহিদ দিবসে এলাকায় দলের পতাকা তুলে যান বলে অভিযোগ। বিধায়ককে বাধা দেন তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের একাংশ। তাঁর বিরুদ্ধে স্লোগানও দিতে শুরু করেন বিক্ষুদ্ধ কর্মীরা। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, প্রায় কাঁদতে কাঁদতে ঘটনাস্থল থেকে ছেড়ে চলে যেতে হয় চণ্ডীতলার তৃণমূল বিধায়ক স্বাতী খন্দেকরকে। 

বিধায়ক স্বাতী খন্দেকার বলেন, বহিষ্কৃত পঞ্চায়েত প্রধান মনোজ সিং-কে সঙ্গে করে নিয়ে যাননি। কেউ যদি গাড়ি পিছন পিছন চলে যায়, তারজন্য কি তিনি দায়ী? জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ ও স্থানীয় তৃণমূল নেতা সুবীর মুখোপাধ্যায়ের অনুগামীরা অনুষ্ঠানে এসে গন্ডগোল পাকিয়েছেন। ঘটনাটি দলের উচ্চতর নেতৃত্বকে জানাবেন। তাঁর আরও বক্তব্য, 'ওঁরা ভুলে গিয়েছেন, আমি প্রয়াত সাংসদ সাংসদ আকবর আলী খন্দকার এর স্ত্রী। যিনি সিপিএম এর সাথে লড়াই করে এই আসন টা ছিনিয়ে আনেন।' এদিন অন্য একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে চণ্ডীতলায় যান শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধায়ক পুত্র তাঁর কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন বলে খবর। 

আরও পড়ুন: শেড মেরামতির জন্য 'কাটমানি', তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে জেলাশাসকের দপ্তরে ধরনা দম্পতির

কী বলছেন হুগলি জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ ও তৃণমূল নেতা সুবীর মুখোপাধ্যায়? তাঁর সাফাই, 'আমি বিষয়টা জানতামই না। শুনেছি, মনোজকে সঙ্গে নিয়ে পতাকা তুলতে গেলে বিধায়ককে বাধা দেন দলের কর্মীদের একাংশ। স্বতঃস্বর্তভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছেন তাঁরা।'