বিদায়বেলাতেও রাজ্য সরকারের সঙ্গে সংঘাতে জড়ালেন পশ্চিমবঙ্গের বিদায়ী রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠী। সংবাদসংস্থার খবর অনুযায়ী, একটি সাক্ষাৎকারে কেশরীনাথ ত্রিপাঠী দাবি করেছেন, মুখ্যমন্ত্রীর সংখ্যালঘু তোষণের জেরেই রাজ্যের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট হচ্ছে। যদিও, কেশরীনাথ ত্রিপাঠী পরে দাবি করেছেন, তাঁর মন্তব্যের অপব্যাখ্যা করা হচ্ছে। 

সংবাদসংস্থা পিটিআইয়ের দাবি অনুযায়ী, তাদেরকে দেওয়া সাক্ষাৎকারেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সংখ্যালঘু তোষণের সমালোচনা করেছেন কেশরীনাথ। তিনি বলেন, 'মুখ্যমন্ত্রীর তোষণের রাজনীতির নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে সামাজিক সম্প্রীতিতে। তাঁর উচিত, সব নাগরিককে সমান চোখে দেখা। কোনও রকম ভেদাভেদ ছাড়াই পশ্চিমবঙ্গের সব বাসিন্দাদের সমান চোখে দেখা উচি বলেই আমি মনে করি।'  পশ্চিমবঙ্গে কোনও ভেদাভেদ বা পক্ষপাতিত্ব তাঁর চোখে পড়েছে কি না, সেই প্রশ্নও করা হয়েছিল কেশরীনাথকে। তাঁর জবাবে তিনি বলেন, 'ভেদাভেদ তো সবার চোখেই পড়ছে। ওঁর বক্তব্যেই তা আরও স্পষ্ট।'

বাংলার মুখ্যমন্ত্রী আবেগ নিয়ন্ত্রণেরও পরামর্শ দিয়েছেন বিদায়ী রাজ্যপাল। তিনি বলেছেন, 'মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দূরদৃষ্টি রয়েছে। নিজের সিদ্ধান্ত কার্যকর করার মতো ক্ষমতাও রয়েছে তাঁর হাতে। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে তিনি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। যা তাঁকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।'

রাজ্যপালের এই বক্তব্য সামনে আসার পরেই তাঁর সমালোচনায় সরব হয় রাজ্যের শাসক দল। তৃণমূল মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, কেন্দ্রের শাসক দলের সুনজরে থাকতেই কেশরীনাথ এমন মন্তব্য করেছেন। এতদিন পরে তিনি এ কথা কেন বলছেন, সেই প্রশ্নও তুলেছেন পার্থবাবু। 

যদিও বিতর্কে ইতি টানতে রাজ্যপাল পরে সংবাদমাধ্যমে বলেন, তাঁর বক্তব্যের অপব্যাখ্যা হয়েছে সংবাদমাধ্যমে। শুধু তাই নয়, মুখ্যমন্ত্রী দায়িত্ব সামলাতে জানেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে রাজ্যে বেড়ে চলা রাজনৈতিক হিংসা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাজ্যপাল। শান্তি ফেরাতে সবার কাছে আবেদন করেছেন তিনি। রাজ্যের অর্থনৈতিক অগ্রগতির পক্ষেও সওয়াল করেছেন তিনি। কয়েকদিন আগেই পশ্চিমবঙ্গের নতুন রাজ্যপাল হিসেবে জগদীপ ধনকারের নাম ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।