শুধু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নন, দিল্লি গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করলেন রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠী। সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি স্বীকারও করেছেন, রাজ্যের পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর হাতে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে রিপোর্ট তুলে দিয়েছেন তিনি। তবে এই সাক্ষাত সৌজন্যমূলক ছিল বলেই দাবি করেছেন তিনি। ফলে তার মধ্যে যে সন্দেশখালির সাম্প্রতিক রাজনৈতিক হিংসার ঘটনার উল্লেখ রয়েছে, তা ধরে নেওয়াই যায়। 

একদিকে যখন রাজ্যপাল দিল্লি গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে গিয়ে রাজ্যের পরিস্থিতি সবিস্তারে তুলে ধরছেন রাজ্যপাল, তখন রাজ্য সরকারের উপরে আরও চাপ বাড়িয়ে সন্দেশখালিতে গেল কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাবাহিনীর একটি দল। এ দিন সকালে সন্দেশখালির ন্যাজাটের যান কেন্দ্রীয় আইবি-র বেশ কয়েকজন আধিকারিক। হাটগাছি এবং ভাঙারহাট গ্রামে গিয়ে হিংসার ঘটনা নিয়ে খোঁজ খবর নেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে নমুনাও সংগ্রহ করেন তাঁরা। প্রসঙ্গত, সন্দেশখালির ঘটনার পরেই শনিবার রাজ্যের কাছে ঘটনা নিয়ে রিপোর্ট চায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। শুধু তাই নয়, ঘটনা নিয়ে রাজ্যকে কড়া বার্তাও দেওয়া হয়। দোষী পুলিশ অফিসারদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করে অমিত শাহের মন্ত্রক। রাজ্যের কাছ থেকে রিপোর্ট চাওয়ার আগেই অবশ্য রাজ্য বিজেপি-র থেকে রিপোর্ট চায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। তৃণমূলও পাল্টা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে চিঠি দিয়ে দাবি করেছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের এই পদক্ষেপ অসাংবিধানিক এবং অগণতান্ত্রিক। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও সোমবার দাবি করেছেন, রাজ্যকে অশান্ত করার চক্রান্ত করা হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, দাঙ্গা বাঁধানোর চেষ্টা করছে বিজেপি। রাজ্য সরকারকে ভেঙে ফেলতেই এই চক্রান্ত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ মমতার। 

এ দিকে সূত্রের খবর অনুযায়ী, সন্দেেশখালি কাণ্ডের পরে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সর্বদলীয় বৈঠক ়ডাকার কথা ভাবছেন রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠী। সেই বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী এলে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তাঁকে বেশ কিছু পরামর্শও দিতে পারেন রাজ্যপাল। 

এ দিন দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রাজ্যপালের বৈঠক পূর্ব নির্ধারিতই ছিল। কিন্তু অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠকের কথা আগে জানা যায়নি। এর থেকেই স্পষ্ট, সন্দেশখালির ঘটনাকে কতটা গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। যদিও এই বৈঠককে গুরুত্ব দিতে নারাজ তৃণমূল নেতৃত্ব। তৃণমূল মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় কটাক্ষ করে বলেছেন, কেশরিনাথ ত্রিপাঠী এ রাজ্যে আর বেশি দিন রাজ্যপালের পদে থাকবেন না। ফলে, তাঁর করা বৈঠককে গুরুত্ব দেওয়ার দরকার নেই। 

এ দিকে সন্দেশখালির ঘটনায় মৃত বিজেপি সমর্থক প্রদীপ মণ্ডলের স্ত্রী তৃণমূল নেতা শাহাজাহান আলি এবং বাবু মাস্টারের বিরুদ্ধে থানায় খুনের অভিযোগ দায়ের করেছেন। আবার মৃত তৃণমূল সমর্থক কায়ুম মোল্লার বাবাও বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে থানায় পাল্টা অভিযোগ দায়ের করেছেন। বিজেপি নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয় জানিয়েছেন, এইভাবে বাংলায় হিংসা চলতে থাকলে তারা রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করার দাবি জানাবেন।