Kolkata Councillors: পালাবদলের সুনামি আছড়ে পড়েছে রাজ্যজুড়ে। উত্তরবঙ্গ থেকে রাঢ়বঙ্গ, মতুয়া গড় থেকে জঙ্গলমহল। সর্বত্র চমকপ্রদ জয় পেয়ে বঙ্গের ক্ষমতা দখল করেছে বিজেপি। দার্জিলিং, পূর্ব মেদিনীপুর সহ রাজ্যের ৯টি জেলায় ধুয়েমুছে সাফ হয়ে গিয়েছে TMC।
Kolkata Councillors: পালাবদলের সুনামি আছড়ে পড়েছে রাজ্যজুড়ে। উত্তরবঙ্গ থেকে রাঢ়বঙ্গ, মতুয়া গড় থেকে জঙ্গলমহল। সর্বত্র চমকপ্রদ জয় পেয়ে বঙ্গের ক্ষমতা দখল করেছে বিজেপি। দার্জিলিং, পূর্ব মেদিনীপুর সহ রাজ্যের ৯টি জেলায় ধুয়েমুছে সাফ হয়ে গিয়েছে TMC। এক সময় দিদির নিরাপদ গড় হিসেবে কলকাতা-তেও ধসে পড়েছে সবুজ দুর্গ। খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় হেরে গিয়েছেন ভবানীপুরে। রাসবিহারীতে এই প্রথমবার হেরেছে তৃণমূল। মানিকতলা থেকে শ্য়ামপুকুর, কাশীপুর-বেলগাছিয়া থেকে জোড়াসাঁকো, সব জায়গায় জিতেছে বিজেপি। বৃহত্তর কলকাতায় তৃণমূলের হাল আরও খারাপ। দুই বেহালাতেই ধরাশায়ী হয়েছে দিদির দল। টালিগঞ্জ, যাদবপুরে ঐতিহাসিক সাফল্য পেয়েছেন নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহ-রা।
মানিকতলা-টালিগঞ্জ থেকে যাদবপুরের তৃণমূল কাউন্সিলর-দের দলবদল নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে
রাজ্যের পালাবদলের পর এবার কলকাতায় পরিবর্তনে চোখ বিজেপির। আর কয়েক মাস পরেই কলকাতা পুরসভায় নির্বাচন। প্রথমবার কলকাতা পুরসভার দখল নিতে ঝাঁপাবে বিজেপি। ১৪৪ ওয়ার্ডের কলকাতা পুরসভায় বিজেপির এখন মাত্র তিনজন কাউন্সিলর আছেন- মীনাদেবী পুরোহিত, বিজয় ওঝা ও সজল ঘোষ। সেখানে তৃণমূল ২০২১ কলকাতা পুর নির্বাচনে জিতেছিল ১৩৪ আসনে। কিন্তু এবার বিধানসভা নির্বাচনে কলকাতার নির্বাচনী চিত্রটা পুরোপুরি উল্টে গিয়েছে ৬টি আসনে জেতা বিজেপি শহরের সিংহভাগ ওয়ার্ডেই এগিয়ে রয়েছে। কাশীপুর-বেলগাছিয়া থেকে মানিকতলা, শ্যামপুকুর, জোড়াসাঁকো, ভবানীপুর, রাসবিহারী, টালিগঞ্জ, যাদবপুর, বেহালা পূর্ব ও বেহালা পশ্চিমের সিংহভাগ ওয়ার্ডেই বড় লিড আছে বিজেপির। সেখানে বালিগঞ্জ, কলকাতা পোর্ট, কসবার কিছু অংশ আর বেলেঘাটা ছাড়া তৃণমূলে আর কোনও ওয়ার্ডেই আধিপত্য নেই। ২০১০ সাল থেকে কলকাতা পুরসভার তৃণমূলের দখলে আছে। গত ১৬ বছরে কলকাতার মেয়র তৃণমূলের- শোভন চ্য়াটার্জি (প্রাক্তন) ও ফিরহাদ হাকিম (বর্তমান)। ২০০৫-১০ কলকাতার মেয়র ছিলেন সিপিএম নেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। তার আগে বাম আমলে পাঁচ বছরের জন্য কলকাতার মেয়র ছিলেন তৃণমূলের সুব্রত মুখোপাধ্য়ায়। নির্বাচনের অঙ্কই বলছে, এবার কলকাতায় বসতে চলেছে বিজেপির মেয়র। আর তাই নিজেদের ওয়ার্ড ধরে রাখতে ফুল বদলে আগ্রহ দেখাচ্ছেন তৃণমূলের কাউন্সিলরদের একটা বড় অংশ।
দুই বেহালার বেশ কয়েকজন তৃণমূল কাউন্সিলর বিজেপির দিকে পা বাড়িয়ে
জোর জল্পনা, পালাবদলের ঠিক পরেই কলকাতার বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডের তৃণমূলের কাউন্সিলররা দলবদলের পথে হাঁটতে চলেছেন। বেহালা পূর্ব ও পশ্চিম, মানিকতলা, জোড়াসাঁকো, টালিগঞ্জ, ও যাদবপুর বিধানসভার বেশ কয়েকজন তৃণমূল কাউন্সিলর বিজেপিতে যোগদানের চেষ্টা করছেন। ভোটের আগে থেকেই বেহালার দাপুটে তৃণমূল কাউন্সিলর তারক সিং-য়ের দলবদলের জল্পনা ছিল। পালাবদলের পর সেই জল্পনা আরও বেড়েছে। তারক-কে বিধানসভায় টিকিট না পাওয়া নিয়েও তাঁর অসন্তোষের কথা শোনা গিয়েছিল।। মেয়র ফিরহাদ হাকিমের সঙ্গে তারক সিংয়ের সম্পর্ক একেবারেই ভাল নয়। প্রসঙ্গত, ১১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তারক সিংয়ের ছেলে অমিত সিং (১১৭ ওয়ার্ড) ও মেয়ে কৃষ্ণা সিং (১১৬ নম্বর ওয়ার্ড)-ও জনপ্রতিনিধি। বেহালায় তৃণমূলের এই সিং পরিবার থেকেই তিনজন কাউন্সিলর। কলকাতার ৫৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জীবন সাহা-রও নামও দলবদলের জল্পনায় ভাসছে। তৃণমূলের দুজন প্রাক্তন বিধায়ক-কাউন্সিলরের নামও দলবদলের জল্পনায় ভাসছে।
জল্পনায় সবচেয়ে বেশি কাদের নাম ভাসছে
সূত্রের খবর, দুই বেহালার কাউন্সিলর-দের বিজেপিতে যোগদানের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। দীর্ঘদিন ধরেই বেহালার ওয়ার্ডগুলিতে তৃণমূলের একাধিপত্য রয়েছে। বাম জমাতে থেকেই বেহালা পশ্চিমের বেশ কয়েকটি ওয়ার্ড- ১১৮ থেকে ১৩২ (১২৮ বাদে) নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূলের কাউন্সিলররা জিতে আসছেন। পালাবদলের পর এবার নিশ্চিতভাবেই বেহালার ওয়ার্ডগুলিতে এবার ধরাশায়ী হতে চলেছে তৃণমূল। প্রসঙ্গত, বেহালা পূর্ব বিধানসভায় তৃণমূল শুভাশীষ চক্রবর্তী হারেন ২৫ হাজার ১৩৭ ভোটে, আর বেহালা পশ্চিমে রত্না চট্টোপাধ্যায় পরাস্ত হন ২৪ হাজার ৬৯৯ ভোটে। দুই বেহালার সব কটি ওয়ার্ডেই বিজেপির লিড আছে। তবে শুধু বেহালা কেন, শহরের প্রায় সব কেন্দ্রগুলিতে তৃণমূলকে নিয়ে যে চরম ক্ষোভ ইভিএমে প্রতিফলিত হতে দেখা গিয়েছে, তাতে এটা পরিষ্কার কলকাতা পুরসভাতে পরিবর্তন এখন সময়ের অপেক্ষা।
এখই আগ্রহী নয় বিজেপি
তবে তৃণমূলের কাউন্সিলদের একাংশ যতই আগ্রহ দেখান, এখনই বিজেপি নেতৃত্ব দলবদলের নেতাদের বিষয় আগ্রহী নয়। কলকাতা পুরসভার ভোট এখনও মাস ছয়েক বাকি আছে। কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ডভিত্তিক বিশ্লেষণ, প্রস্তুতির জন্যও আরও কিছুটা সময় নিতে চান রাজ্য বিজেপি নেতারা।


