বাঘাযতীনে তৃণমূলের দুই কাউন্সিলর। একজন কলকাতা পুরসভার ৯৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মিতালি বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যজন ৯৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তথা যাদবপুরের বিধায়ক দেবব্রত মজুমদার। 

বাঘাযতীদের হেলে পড়া ফ্ল্যাটবাড়ি ভাঙার কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি শুরু হয়েছে এই চারতলা বিপজ্জনক বাড়ি নিয়ে রাজনীতিও। বাঘাযতীনের বিদ্যাসাগর কলোনিতে এই ফ্ল্যাটবাড়ি। এদিন দুপুরে আটকমাই হেলে পড়ে। ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের দুই কাউন্সিলর। অন্যদিতে বামেদের প্রাক্তন কাউন্সিলরও ঘটনাস্থলে যান। সেখানে তিনি অবশ্য স্থানীয়দের তাড়াও খান।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

তৃণমূল কাউন্সিলর

বাঘাযতীনে পৌঁছে গিয়েছেন, তৃণমূলের দুই কাউন্সিলর। একজন কলকাতা পুরসভার ৯৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মিতালি বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যজন ৯৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তথা যাদবপুরের বিধায়ক দেবব্রত মজুমদার। দুজনেই মেয়র পারিষদের সদস্য। মিতালি জানিয়েছেন, 'আমি এই ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর। আমি এই এলাকায় চারতলা ফ্ল্যাট তৈরির অনুমতি দিই না। তিনতলা পর্যন্ত ফ্ল্যাট করা যায়। কিন্তু তিনতলা করলেও অনুমতি নিতে হয়।' ফ্ল্যাট নিয়ম মেনে তৈরি হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেছেন এটা পুরসভা দেখবে। বিধায়ক দেবব্রত বলেছেন, 'বাড়িটি ১০-১২ বছরের পুরনো। বাড়িটি হেলে গিয়েছিল। ফ্ল্যাটবাড়ির কর্তৃপক্ষ হরিয়ানার এক সংস্থার সাহায্য নিয়ে বাড়িটি ‘লিফ্‌ট’ করার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু এই ধরনের কাজের ক্ষেত্রে অনুমতি নিতে হয়। সেই অনুমতি নেওয়া হয়নি। অনুমতি ছাড়াই কী ভাবে এই কাজ হচ্ছিল, তা খতিয়ে দেখা উচিত। আমরা পুলিশকে বলেছি তা দেখতে।' ফ্ল্যাটটি অনুমতি নিয়ে তৈরি হয়েছিল কিনা তা নিয়ে তিনি বলেন, '১০-১২ বছর আগের ঘটনা। তবে আমার ধারণা অনুমতি নেওয়া হয়নি।' বিধায়ক আরও জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন আগে এই এলাকায় জলা জমি ছিল। সেটি বুজিয়েই ফ্ল্যাট তৈরি করা হয়েছিল।

প্রাক্তন কাউন্সিলর

এই দুর্ঘটনার পর কলকাতা পৌরসভার ৯৯ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন আরএসপি কাউন্সিলর ঘটনাস্থলে গিয়ে রাজনীতি ইঙ্গিত দিলে ক্ষুব্ধ হন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা তাকে তাড়া করেন। পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দেয়। স্থানীয় মানুষের অভিযোগ, এই বেআইনি ঘটনা ওইআরএসপি কাউন্সিলর থাকাকালীন ঘটেছে। এখন এসে দুর্ঘটনার পর দুর্গতদের পাশে না দাঁড়িয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে না দিয়ে রাজনীতি করছেন।

বাঘাযতীন যাদবপুর অঞ্চলে কলোনি এলাকাগুলিতে বহু বাড়ি বেআইনি হয়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান। এগুলো অধিকাংশ বাম জামানাতেই হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।মঙ্গলবার দুপুরে দক্ষিণ কলকাতার বাঘাযতীনে হেলে পড়ল আস্ত একটি ফ্ল্যাটবাড়ি। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ ওই ফ্ল্যাটবাড়িতে থাকা সব বাসিন্দাকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া গিয়েছে। আপাতত কেউ ওই ফ্ল্যাটবাড়ির ভেতরে আটকে নেই এবং এই দুর্ঘটনায় কেউ তেমন কোনও চোট আঘাতের খবর নেই বলে খবর পুলিশ সূত্রে। তবে কী কারণে ওই ফ্ল্যাটবাড়িটি হেলে পড়ল, তা এখনও স্পষ্ট নয়।স্থানীয়দের একাংশের দাবি, ওই ফ্ল্যাটবাড়িতে আগেই ফাটল দেখা দিয়েছিল। সেই সময় পুর কর্তৃপক্ষের তরফে ওই ফ্ল্যাটের বাসিন্দাদের সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযোগ, তার পরে আবার ওই ফ্ল্যাটে গিয়ে বসবাস করতে থাকেন অনেকে। স্থানীয়দের দাবি, ফ্ল্যাটটি নিয়ম মেনে তৈরি করা হয়নি। ওই অঞ্চলে তিন তলা ফ্ল্যাট বানানোর অনুমতি দেয় পুরসভা। অভিযোগ, সেই নিয়ম ভেঙে চার তলা ফ্ল্যাট তৈরি করা হয়েছিল। ঘটনাস্থলে পৌঁছে যাদবপুর থানা পুলিশ-সহ দমকল বিভাগ ও কলকাতা পুরসভার বিল্ডিং বিভাগের বিশেষজ্ঞরা।