গ্রাম তেমন কাজ নেই। কেউ বৃদ্ধ বাবা-মা, কেউ আবার অসুস্থ পরিজনকে ফেলে চলে গিয়েছিলেন কাশ্মীরে। স্রেফ দু'পয়সা বেশি রোজগারের আশায়। কিন্তু ভু-স্বর্গে পড়শি জেলা মুর্শিদাবাদের পাঁচ শ্রমিককে খুনের ঘটনায় আতঙ্ক গ্রাস করেছেন সকলেই।  কাশ্মীর ছেড়ে এখন বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বীরভূমের জনা পঞ্চাশেক বাসিন্দা। তাঁদের অপেক্ষায় পরিবারের লোকেরা। 

বীরভূমের পাইকর থানার মিত্রপুর গ্রামপঞ্চায়েতের নয়াগ্রামে থাকেন জাহাঙ্গীর শেখ।  এক ছেলে মারা গিয়েছেন। বড় ছেলে দীর্ঘদিনই দিল্লি প্রবাসী। তাঁর সঙ্গে তেমন যোগাযোগই নেই জাহাঙ্গীরের। পরিবারের  একমাত্র রোজগেরে ছোট ছেলে কর্মসূত্রে থাকেন কাশ্মীরে। গ্রামের বাড়িতে অসুস্থ সেজ ছেলে, ছেলের বউ ও স্ত্রীকে নিয়ে থাকেন জাহাঙ্গীর।  ওই বৃদ্ধের কথায়, 'এখানে তো তেমন  কাছ নেই। ওখানে দিনে পাঁচশো টাকা মজুরি পাওয়া যায়। কিন্তু মুর্শিদাবাদের পাঁচ শ্রমিককে যেভাবে মেরে ফেলল, তাতে চিন্তায় আছি। ছেলেকে ফিরে আসতে বলেছি।' 

নয়াগ্রামে বধূ নাসিমা বিবির স্বামীও কর্মসূত্রে থাকেন কাশ্মীরে। কাশ্মীরে কখনও আপেল বাগানে তো আবার কখনও ক্ষেতে মজুরের কাজ করেন তিনি। রোজগারও মন্দ হয় না। নাসিমা বিবি জানালেন, 'ওখানে কাজ করে মাসে মাসে যা টাকা পাঠায়, তাতে দিব্যি সংসার চলে যায়। কিন্তু এখন আর মন চাইছে না, স্বামী কাশ্মীর থাকুন। তাই ফিরে আসতে বলেছি।'  জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই কাশ্মীর ছেড়ে বাড়ির পথে রওনা দিয়েছেন বীরভূমের শ্রমিকরা।  বাড়ি ফিরছেন ২৫ জন। 

কিন্তু কাজের সন্ধানে কেন নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে কাশ্মীরে যেতে হয়েছিল বীরভূমের নয়াগ্রামের বাসিন্দাদের? স্থানীয় মিত্রপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য আপেল শেখ বলেন, ]গ্রামে একশো দিনের প্রকল্পের তেমন কাজ নেই।  লোক থাকলেও, সকলকে পর্যাপ্ত কাজ দেওয়া যাচ্ছে না।  একশো দিনেরর প্রকল্পের বছরে মাত্র দু'বার কাজ পান গ্রামবাসীরা। তাছাড়া কাশ্মীরে মজুরিও অনেক বেশি পাওয়া যায়।'