রাজ্যে মদ বিক্রির রেকর্ডলকডাউনে অনুমতি মেলার প্রথম তিনদিনেইএর আগে কোনওদিন এত ব্যবসা হয়নিতবে হোম ডেলিভারিতে আপত্তি জানাচ্ছেন বিক্রেতারা 

লক ডাউনে মদ বিক্রি চালু হতেই গত ৬ মে পর্যন্ত, মদ বিক্রির রেকর্ড হল পশ্চিমবঙ্গে। প্রথম ৩ দিনে ১০৮ কোটি ১৬ লক্ষ টাকার মদ বিক্রি হয়েছে, যা রাজ্যের ক্ষেচ্রে সর্বকালীন রেকর্ড। এমনটাই দাবি করেছেন রাজ্যের হোটেল ও বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুস্মিতা মুখোপাধ্যায়। আর এর থেকে রাজস্ব বাবদ রাজ্য সরকারের আয় প্রায় ৭০ কোটি।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

চলতি সপ্তাহের সোমবার থেকে সারা দেশে মদ বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। প্রথমদিনই রাজ্যের সর্বত্র মদের দোকানগুলিতে উপচে পড়েছিল সুরাপ্রেমীদের ভিড়। যা দেখে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন অনেকে। অনেক জায়গাতেই ভিড়ের চাপে জোকান বন্ধ করে দিততে হয়। পুলিশকে লাঠিচার্জ করে জনতাকে সরিয়ে দিতে হয়েছিল। তারপর থেকে ভিড় এড়াতে অনলাইনে অর্ডার করে মদের হোম ডেলিভারি চালু করেছে রাজ্য সরকার। এই প্রক্রিয়ার কার্যকারিতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন সুস্মিতা মুখোপাধ্যায়। এছাড়া এই প্রক্রিয়ায় কিছু সমস্যাও রয়ে গিয়েছে বলে দাবি তাঁর।

তিনি বলেছেন, 'মানুষ অনলাইনে কোথায় স্টক আছে সেই দেখে অর্ডার করছেন। ধরা যাক, ব্যারাকপুরের এক ব্যক্তি অনলাইনে দেখে শ্যামনগরের এক দোকান থেকে মদ অর্ডার করলেন। শ্যামনগরের দোকান থেকে তাকে মদ ডেলিভারি দেওয়া হল। কিন্তু, ব্যারাকপুরে যাঁর দোকান, তাঁর কী হবে?' এছাড়া ডেলিভারি যিনি করবেন, তাঁর থেকে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও বেশি। দোকানের ক্ষেত্রে নিয়মিত স্যানিটাইজ করা যায়। কালোবাজারি-দুর্নীতিও বেড়ে যেতে পারে।

এইসব কারণেই লাইসেন্সধারী মদ ব্যবসায়ীরাই অনলাইন ডেলিভারি প্রক্রিয়া মানতে চাইছেন না। হোটেল ও বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আরও জানিয়ছেন তাঁরা সকলে মিলে আলোচনা করে অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে সরকারকে এই বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য জানাবেন।

সুস্মিতা মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন মদের দোকানের মালিকদের সঙ্গে প্রশাসন দারুণভাবে সহযোগিতা করছে। তাই তাঁর মতে প্রথম দু-একটা দিনই ভিড়ের সমস্যা হত। অনেকদিন মদ বিক্রি বন্ধ থাকার ফলেই ওই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। তারপর থেকে ভিড় কিন্তু ক্রমশ কমেছে। আমদানি-রপ্তানী ঠিক থাকলে পরিস্থিতি আগের মতোই স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলেই দাবি করেছেন তিনি।