লকডাউনের জেরে কাজকর্ম  বন্ধ, সেও তো কম দিল হল না। বাস কিংবা ট্রেন, চলছে না কিছুই। প্রশাসনের সাহায্য় না পেয়ে হাঁটাপথে বাড়ি ফিরতে গিয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লেন অন্তঃসত্ত্বা দুই মহিলা। স্থানীয় বাসিন্দাদের তৎপরতায় ওই দুই মহিলা-পরিযায়ী শ্রমিকদের থাকার ব্য়বস্থা করল পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনায়।

আরও পড়ুন: কোটা থেকে ফিরেই করোনা আক্রান্ত রাজ্য়ের ছাত্রী, সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের পাঠানো হবে কোয়ারেন্টিনে

এ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তো বটেই, ভিন রাজ্যেও আটকে পড়েছেন অনেকেই। লকডাউনের জেরে পরিযায়ী শ্রমিকদের দুর্ভোগই সবচেয়ে বেশি। জানা দিয়েছে, কয়েক মাস আগে উত্তর দিনাজপুর থেকে অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমে যান ২৫ জন শ্রমিক। সেই দলে ছিলেন দু'জন মহিলাও। ভিন রাজ্যে কাজ করতে গিয়ে গর্ভবতী হন তাঁরা। এদিকে ততদিনে করোনা সতর্কতায় দেশজুড়ে জারি হয়ে গিয়েছে লকডাউন। আর তাতেই ঘটে বিপত্তি।

পরিযায়ী শ্রমিকদের দাবি, বিশাখাপত্তনমে একটি নির্মাণ সংস্থায় কাজ করতেন তাঁরা। কিন্তু লকডাউন জারি হওয়ার পরেই পালিয়ে যান সেই সংস্থার লোকজন। হাতে যেটুকু টাকা-পয়সা ছিল, তাও শেষ হয়ে যায়। তখন বাড়ি ফেরা ছাড়া আর কোনও উপায় ছিল না। কিন্তু প্রশাসনের তরফে কোনও সাহায্য় মেলেনি বলে অভিযোগ। নিরুপায় হয়ে শেষপর্যবন্ত দু'জন অন্তঃসত্ত্বা মহিলা-সহ সকলেই পায়ে হেঁটে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। কিছুটা পথ এসেছেন মালগাড়িতেও। খাবার জোটেনি, কয়েকদিন স্রেফ জল খেয়েই কাটিয়েছেন তাঁরা।

আরও পড়ুন: 'খাবার ও পানীয় জল নেই', ট্রেন থামিয়ে বিক্ষোভ ভিনরাজ্য়ের পরিযায়ী শ্রমিকদের

আরও পড়ুন: লকডাউনেও হাট বসল উত্তর দিনাজপুরে, মাস্ক না পরেই ভিড় জমাল ভিনরাজ্যের মানুষ

বৃহস্পতিবার সকালে যখন পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনা পৌঁছন, তখন ক্ষুধা ও ক্লান্তিতে আর হাঁটার ক্ষমতা ছিল না পরিযায়ী শ্রমিকদের। গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ছিলেন অন্তঃস্বত্ত্বা মহিলারা। ঘটনাটি নজরে পড়তেই তৎপর হন স্থানীয় একটি ক্লাবের সদস্যরা। স্থানীয় দেওপুর এলাকায় শ্রমিকদের খাওয়া-দাওয়া ব্যবস্থা করা হয়। খবর দেওয়া হয় থানায়। বাসস্ট্যান্ডে আপাতত শ্রমিকদের থাকার ব্যবস্থা করেছে পুলিশ।  অন্তঃস্বত্ত্বা মহিলাদের প্রাথমিক চিকিৎসার পর প্রশাসনের তরফেই তাঁদের বাড়ি ফেরানোর ব্যবস্থা করা হবে বলে জানা গিয়েছে।