রোগীদের খাবারের মধ্যেই মিলল টিকটিকি। এমনই অভিযোগে চাঞ্চল্য ছড়াল পূর্ব মেদিনীপুর জেলা হাসপাতালে। সঙ্গে সঙ্গেই এ দিন রান্না করা খাবার বাতিল করে দিয়ে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়। 

এ দিন দুপুরে অন্যান্য দিনের মতোই হাসপাতালের রোগীদের খাবার সরবরাহ করা হয়। অভিযোগ, তখনই প্রতাপ চন্দ্র মাইতি নামে হাসপাতালে ভর্তি এক রোগীকে দেওয়া ডালের  মধ্যে মরা টিকটিকি পাওয়া যায় বলে অভিযোগ। সঙ্গে সঙ্গে ওই রোগীর পরিবার বিষয়টি অন্যান্য রোগী এবং হাসপাতালের কর্মীদের দেখান। প্রতাপবাবুর শাশুড়ি সবিতা মাইতির দাবি, ওই ওয়ার্ডে ভর্তি বেশ কয়েকজন রোগী ওই ডালই খেয়ে নিয়েছেন।

 বিষয়টি জানাজানি হতেই অন্যান্য রোগীর আত্মীয়রাও জড়ো হয়ে যান। সঙ্গে সঙ্গে রোগীদের দুপুরের খাবার সরবরাহ বন্ধের নির্দেশ দেন হাসপাতালের সুপার গোপাল দাস। ডালের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করার জন্য পাঠান তিনি। গোটা ঘটনায় ক্ষুব্ধ রোগীদের পরিজনরা হাসপাতাল চত্বরে বিক্ষোভও দেখান।

হাসপাতালে খাবার সরবরাহের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদার অতনু সিংহ অবশ্য ডালে টিকটিকি থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, রোগীদের খাবার সরবরাহ করার পরে তাতে টিকটিকি পড়ে থাকতে পারে। 

এই ঘটনার জেরে এ দিন দুপুরে আর রোগীদের হাসপাতালের তরফে খাবার দেওয়া সম্ভব হয়নি। সুপার গোপাল দাস জানিয়েছেন, এ দিন রাতেও ওই ঠিকাদারই খাবার সরবরাহ করবেন। খাবারের নমুনাও সংগ্রহ করে রাখা হয়েছে। তবে এটিকে নিছকই দুর্ঘটনা বলে দাবি করেছেন হাসপাতাল সুপার। ভবিষ্যতে খাবার রান্না এবং পরিবেশনের ক্ষেত্রে আরও সতর্কতা অবলম্বন করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।  

মাসখানেক আগে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা হাসপাতাল পরিদর্শনে এসেছিলেন হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনিও হাসপাতালে রোগীদের দেওয়া খাবার অত্যন্ত নিম্নমানের বলে অভিযোগ করেছিলেন। তার পরেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের টনক নড়েনি। হাসপাতালের কর্মীদের সূত্রে খবর, এর আগেও ওই ঠিকাদারের বিরুদ্ধে নিম্নমানের খাবার সরবরাহের অভিযোগ উঠেছিল। তার পরেও ওই ঠিকাদারের থেকেই কেন খাবার নেওয়া হচ্ছে, সেই প্রশ্ন তুলছেন রোগীর পরিজনরা।