আসানসোল শহর থেকে খুব বেশি দূরে নয়। কিন্তু স্রেফ বেহাল রাস্তার কারণে স্থানীয় মানুষদের দুর্ভোগের শেষ নেই। তাঁদের বক্তব্য়, রাত-বিরেতে কারোও প্রসবযন্ত্রণা শুরু হলে কিংবা শরীর খারাপ করলে আর রক্ষে নেই। এমনকী, বেহাল রাস্তার কারণে গ্রামের ছেলে-মেয়ে বিয়েও নাকি ভেঙে  যাচ্ছে!

গ্রামের নাম বিনোদবাঁধ। পাণ্ডববর্জিত তো নয়ই, আসানসোল শহর থেকে দূরত্বও মোটে সাত কিলোমিটার। গ্রামটি আসানসোল পুরনিগমের ৯৯ নম্বর ওয়ার্ড ও কুলটির হীরাপুর থানার অধীনে।  কিন্তু হলে কী হবে! রাস্তার হাল এতটাই খারাপ যে, চারচাকা গাড়ি তো দূরের কথা,  বাইক কিংবা সাইকেল নিয়েও বিনোদবাঁধ গ্রামে যাওয়া দুঃসাধ্য। বার্ণপুর, চিনাকুড়ি বা মিঠানী এলাকা দিয়ে বিনোদবাঁধ গ্রামে যাওয়ার যে রাস্তা, তা চলাচলের অযোগ্য। গোটা রাস্তাটাই খানাখন্দ আর বড় বড় পাথরে ভরা। বিনোদবাঁধ গ্রামের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, প্রায় ৩০ বছর আগে বোল্ডার ও মোরাল ফেলে গ্রামের রাস্তাটি চলাচলের যোগ্য করে তোলা হয়েছিল। কিন্তু বৃষ্টির জলে সেই মোরাম কবেই ধুয়ে-মুছে সাফ হয়ে গিয়েছে! এখন রাস্তায় পড়ে রয়েছে স্রেফ বোল্ডার।  বিনোদবাঁধ গ্রামটি আগে ছিল কুলটি পুরসভার অন্তর্গত। এখন আর কুলটি পুরসভার কোনও অস্তিত্ব নেই। ওই পুরসভাটি মিশে গিয়েছে আসানসোল পুরনিগমের সঙ্গে। কিন্তু গ্রামের রাস্তা আগে যেমন ছিল, এখনও তেমনি আছে। 

গ্রামের বেশিরভাগ মানুষই হয় দিনমজুর নয়তো কৃষক। তবে স্কুলে শিক্ষকতা করেন কিংবা কয়লা খনিতে শ্রমিকের কাজ করেন, এমন মানুষও বসবাস করেন বিনোদবাঁধ গ্রামে।  প্রাথমিক স্কুল, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র, এমনকী বিদ্য়ুৎ, সবই আছে, নেই শুধু রাস্তা। গ্রামবাসীদের দাবি, গ্রামের ভিতরে ঢালাই রাস্তা আছে। কিন্তু গ্রামে ঢোকার রাস্তা নিয়ে মাথা ঘামায়নি কেউ। ভোটের সময়ে রাজনৈতিক দলের প্রার্থী আশ্বাস দিয়ে যান। কিন্তু ভোট মিটে আর কেউ কথা রাখেননি। এদিকে স্রেফ বেহাল রাস্তার কারণে বিনোদবাঁধ গ্রামে আইবুড়ো ছেলে-মেয়েদের সংখ্যা বাড়ছে! স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, মেয়েদের তো বটেই, বিনোদবাঁধ গ্রামে ছেলেদেরও অন্য গ্রামে মেয়েরাও বিয়ে করতে চাইছে না।  এমনকী পাত্র জুটছে না সরকারি চাকুরে মেয়েরও!

স্থানীয় সিপিএম কাউন্সিল প্রিয়ব্রত সরকার জানিয়েছেন, তাঁকে বিনোদবাঁধ গ্রামের রাস্তা তৈরির জন্য পুরসভার প্রাথমিক বাজেটে প্রস্তাব জমা দিতে বসেছেন আসানসোলের মেয়র জিতেন্দ্র তিয়ারি। প্রয়োজনে আসানসোল দুর্গাপুর ডেভালপমেন্ট অথরিটি বা এডিডিএ-এর তহবিল থেকে টাকা নেওয়া হবে।