পুলিশ তো দুরের কথা, প্রশাসনের পদস্থ আধিকারিককেও আর ডরাচ্ছে না দুষ্কৃতীরা। বরং তাঁর নাম নিয়েই দিনেদুপুরে দোকান থেকে ল্যাপটপ গায়েব করে দিল চোর! এমনই ঘটনা ঘটেছে পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটালে। দোকানের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে চোরের সন্ধানে তল্লাশি নেমেছে ঘাটাল থানার পুলিশ। 

ঘটনার সূত্রপাত শনিবার দুপুরে। ঘাটাল শহরের এক অভিজাত ল্যাপটপের দোকানের হাজির হয় এক ব্যক্তি। দোকান মালিকের দাবি, আগেও নাকি বেশ কয়েকবার তাঁর দোকানে এসেছিল ওই ব্যক্তি। তখন নিজেকে নবান্নের কর্মী পরিচয় দিয়ে বলেছিল, কাজের সুবাদে তাকে মাঝেমধ্যে ঘাটালের মহকুমাশাসকের অফিসে আসতে হয়।  জানা গিয়েছে, শনিবার দুপুরে দোকানে গিয়ে ওই ব্যক্তি বলেন, খোদ ঘাটালের মহকুমাশাসকের একটি ল্যাপটপ প্রয়োজন।  তবে আগে ল্যাপটপ তিনি দেখতে চান, তারপর দাম মিটিয়ে দেবেন। কিন্তু সত্যিই কি মহকুমাশাসক ল্যাপটপ কিনতে তাঁর দোকানে লোক পাঠিয়েছেন? সন্দেহ হয় দোকান মালিক পার্থ মাইতির।   যে ব্যক্তি দোকানে এসেছিল, তাঁকে পার্থ বলেন, তিনি নিজে অফিসে গিয়ে মহকুমাশাসককে ল্যাপটপ দিয়ে আসবেন। দোকান মালিকের দাবি, তিনি যখন ল্যাপটপ দিয়ে ঘাটালে মহকুমাশাসকের অফিসে যান, তখন দেখেন অফিসের সামনেই দাঁড়িয়ে  রয়েছে অভিযুক্ত।  বস্তুত, ল্যাপটপটি তার হাতে তুলে দেন পার্থ মাইতি। অভিযুক্ত ব্যক্তি বলেন, মহকুমাশাসক মিটিংয়ে ব্যস্ত আছেন। অপেক্ষা করার দরকার নেই।  একটু পরে সে নিজেই গিয়ে টাকা মিটিয়ে দিয়ে আসবে। বাড়ি চলে যান ল্যাপটপ দোকানের মালিক পার্থ মাইতি।


অভিযোগ, বাড়ি ফিরে কিছুক্ষণ পর যখন দোকান মালিক অভিযুক্তকে ফোন করেন, তখন ফোন কেটে দেয় সে।  এমনকী, মহকুমাশাসকের অফিসে গিয়ে ওই যুবকের আর দেখা পাওয়া যায়নি। শেষপর্যন্ত সরাসরি ঘাটালে মহকুমাশাসক অসীম পালের সঙ্গে দেখা করেন দোকান মালিক পার্থ মাইতি। মহকুমাশাসক তাঁকে সাফ জানিয়েছে দেন, এমন কোনও ঘটনার কথা তিনি জানেন, ল্যাপটপ কিনতে কাউকে দোকানেও পাঠাননি।  ঘাটাল থানার এফআইআর করেছেন প্রতারিত দোকান মালিক। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে  অভিযুক্তের খোঁজ শুরু করেছে পুলিশ। এদিকে দিনেদুপুরে এমন ঘটনায় তাজ্জব বনে গিয়েছে সকলেই