গত শুক্রবার রাস্তার পাশ থেকে উদ্ধার হয়েছিল কিশোরীর মৃতদেহ। মৃত কিশোরীর পরিচয় জানতে খোঁজ শুরু করে পুলিশ। আর তাতেই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এলো। কিশোরীর প্রেমিকের বিরুদ্ধেই তাকে ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগে দায়ের হল মামলা। 

পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতার জবা গ্রামের কাছে ধান ক্ষেত থেকে গত শুক্রবার উদ্ধার হয়েছিল এক কিশোরীর মৃতদেহ। ২৪ ঘণ্টা পর তার পরিচয় পায় পুলিশ। তা পরেই এই ঘটনা নাটকীয় মোড় নিয়েছে। ১৮ বছর বয়সি ওই কিশোরীর বাড়ি মেদিনীপুর শহরের মির্জাবাজার ইদগাহ মহল্লায়। একেবারেই নিম্নবিত্ত পরিবারের মেয়ে সে। তার বাবা চেন্নাইতে একটি দোকানে কাজ করেন। 

কিশোরীর পরিবারের দাবি, বেশ কয়েকবছর ধরেই ওই কিশোরীর সঙ্গে গড়বেতার জবা গ্রামের বাসিন্দা মুস্তাক মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। মেদিনীপুর শহরে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ার সময়ই দু' জনের পরিচয় হয়। ক্রমে তা প্রেমে পরিণত হয়। এমন কী, দুই পরিবারের মধ্যে একবার তাদের বিয়ের বিষয়েও কথা হয়। কিন্তু কিশোরীর বাবার দাবি, বিয়ের বিষয়ে তাঁদের থাকলেও মুস্তাকের পরিবার তাঁদের বাড়িঘর দেখে বিয়ের প্রস্তাব নাকচ করে দেন। সেই থেকে তাঁরাও ওই পরিবারের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ রাখেননি। কিন্তু ছেলেটি যে তাঁর মেয়ের সঙ্গে গোপনে সম্পর্ক রেখে যাচ্ছিল, তাও তাঁরা জানতেন না বলে দাবি করেছেন মৃত কিশোরীর বাবা।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকেই ওই কিশোরী নিখোঁজ ছিল। পরিচিত এবং আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে খোঁজ করেও তার সন্ধান না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত শুক্রবার সকালে মেদিনীপুরের কোতওয়ালি মহিলা থানায় মিসিং ডায়েরি করে কিশোরীর পরিবার। 

শনিবার সকালে তারা ফেসবুকের মাধ্যমে গড়বেতায় অজ্ঞাতপরিচয় কিশোরীর মৃতদেহ উদ্ধারের ছবি ও খবর দেখতে পান। ছবি দেখেই তাঁদের মেয়েকে চিনতে পারেন কিশোরীর বাবা-মা। গড়বেতা পৌঁছে পুলিশের সঙ্গে কথা বলে মেয়ের প্রেমিকের বাড়িতেও যান তাঁরা। কিন্তু  মুস্তাক মণ্ডল নামে ওই যুবক তখন বাড়িতে ছিল না। এতেই কিশোরীর পরিবারের সন্দেহ আরও দৃঢ় হয়। গড়বেতা থানায় গিয়ে মুস্তাকের বিরুদ্ধে মেয়েকে ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগ দায়ের করেন কিশোরীর বাবা। পরে কিশোরীর ময়নাতদন্ত রিপোর্টেও মৃত্যুর আগে ধর্ষণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার তদন্তে নেমেছে গড়বেতা থানার পুলিশ।