Mahua Moitra Vs President: তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র অভিযোগ করেছেন যে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু বিজেপির শেখানো কথা বলছেন এবং বাংলার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ করছেন। মহুয়ার হুঁশিয়ারি, সৌজন্য দেখালে সৌজন্যই ফেরত পাওয়া যায়। 

তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ মহুয়া মৈত্র অভিযোগ করেছেন যে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু বিজেপির "শেখানো বুলি আওড়াচ্ছেন" এবং রাজ্যের বিরুদ্ধে অসত্য অভিযোগ করছেন। সামনেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন, তার ঠিক আগেই এই ঘটনা ঘটল। গত সপ্তাহে একটি সাঁওতাল সম্মেলনের বিষয়ে রাষ্ট্রপতি মুর্মুর মন্তব্যের পরেই মহুয়া এই কড়া প্রতিক্রিয়া জানান।

মহুয়ার বিতর্কিত মন্তব্য

প্রসঙ্গত, গত ৬ মার্চ কলকাতায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে একটি বিক্ষোভে যোগ দিয়ে মহুয়া বলেছিলেন, "আজ আমি সবাইকে বলছি, যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে নেই, সে বাঙালি নয় এবং তার বাংলায় থাকার কোনও অধিকার নেই। কারণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলার মানুষের জন্য এই লড়াই লড়ছেন।"

রাষ্ট্রপতিকে আক্রমণ মহুয়ার

শনিবার এক্স-এ (সাবেক টুইটার) পোস্ট করা একটি ভিডিওতে মহুয়া বলেন, ওই বেসরকারি অনুষ্ঠানের জন্য রাজ্য সরকার দায়ী ছিল না। সব ব্যবস্থা সম্পর্কে জানানোর পরেও রাষ্ট্রপতি ভিত্তিহীন অভিযোগ করেছেন। মহুয়া তাঁর পোস্টে লেখেন, "শ্রদ্ধেয়া @rashtrapatibhvn, সৌজন্যের বদলে সৌজন্যই দেখানো হয়। আমরা আপনার চেয়ারকে সম্মান করি, কিন্তু এক মিনিটের জন্যও ভাববেন না যে আপনি আপনার পদের অপব্যবহার করে আমাদের রাজ্য এবং আমাদের মানুষদের সম্পর্কে অসত্য ও ভিত্তিহীন অভিযোগ করতে পারেন। নিদের সোশ্যাল মিডিয়ায় মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়কে যুক্ত করে ভিডিওতে মহুয়া বলেন, রাষ্ট্রপতি মুর্মু রাজ্য সরকারের আয়োজিত কোনও অনুষ্ঠানে বাংলায় আসেননি, বরং একটি বেসরকারি সংস্থার আয়োজিত ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানে এসেছিলেন। মহুয়া বলেন, "ম্যাডাম রাষ্ট্রপতি, আপনি আজ বাংলায় এসে নির্বাচনের সময় বিজেপির শেখানো বুলি আওড়ালেন। আপনি আজ বাংলায় রাজ্য সরকারের আয়োজিত কোনও অনুষ্ঠানে আসেননি। আপনি একটি বেসরকারি সংস্থার ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানে এসেছিলেন। এই প্রকল্পের জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকার দায়ী ছিল না।"

তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী আরও জানান, তা সত্ত্বেও পশ্চিমবঙ্গ সরকার তিন দিন আগে রাষ্ট্রপতির অফিসের সঙ্গে নিরাপত্তা সংক্রান্ত বৈঠক করেছিল। মহুয়া যোগ করেন, "তা সত্ত্বেও আপনার অফিস এবং আপনি বাংলায় আসাটাকে ঠিক মনে করেছেন। আর এখন আপনি বলছেন যে এখানকার ব্যবস্থা আপনার মানের ছিল না। আমরা আপনাকে অনুষ্ঠানের জন্য আমন্ত্রণ জানাইনি, তাই আমরা ব্যবস্থার জন্য দায়ী নই। অথচ এই অনুষ্ঠানের পর আপনি বাংলার মাটিতে দাঁড়িয়ে বাংলা এবং এখানকার আদিবাসী ও উপজাতিদের জীবনযাত্রা সম্পর্কে সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও অসত্য অভিযোগ করছেন।"

মহুয়ার দাবি

মহুয়ার দাবি, দ্রৌপদী মুর্মু প্রথম আদিবাসী রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর থেকে বিজেপির শাসনে উপজাতি, বিশেষ করে উপজাতি মহিলাদের উপর অত্যাচারের সংখ্যা বেড়েছে, তবুও তিনি নীরব থেকেছেন। মহুয়া বলেন, "আমি আপনাকে মনে করিয়ে দিতে চাই, আপনি প্রথম আদিবাসী মহিলা রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর থেকে উপজাতিদের, বিশেষ করে উপজাতি মহিলাদের উপর বিজেপির অত্যাচারের সংখ্যা বেড়েছে। আপনি এসব নিয়ে কিছুই বলেননি। যখন মণিপুরে উপজাতি মহিলাদের ধর্ষণ করে নগ্ন অবস্থায় রাস্তায় ঘোরানো হয়েছিল, আপনি কিছুই বলেননি। যখন মধ্যপ্রদেশে উপজাতি মানুষের উপর প্রস্রাব করা হয়েছিল, আপনি কিছুই বলেননি।" তিনি রাষ্ট্রপতিকে বাংলায় এসে বিজেপির "শেখানো বুলি" বলার জন্য অভিযুক্ত করেন। মহুয়া শেষে বলেন, "আজ আপনি বাংলায় এসে নির্বাচনের তিন সপ্তাহ আগে বিজেপির কথাগুলোই আওড়াচ্ছেন। আমরা আপনাকে এবং আপনার চেয়ারকে সম্মান করি। কিন্তু ম্যাডাম রাষ্ট্রপতি, সৌজন্যের বদলে সৌজন্যই দেখানো হয়। আমাদের মাটিতে এসে আমাদের মানুষদের অপমান করবেন না এবং আমাদের সরকারের কাজ নিয়ে মিথ্যা বলবেন না। নিজের দিকে তাকান এবং আপনার চেয়ারকে গর্বিত করুন। বিজেপির শেখানো বুলি আওড়াবেন না।"

রাষ্ট্রপতির হতাশা

প্রসঙ্গত, দার্জিলিংয়ে ৯ম আন্তর্জাতিক সাঁওতাল সম্মেলনে আয়োজন নিয়ে রাষ্ট্রপতি মুর্মু হতাশা প্রকাশ করেন এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপস্থিতির বিষয়টি উল্লেখ করার পরেই এই রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়। বিজেপি তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপতিকে অপমান করার অভিযোগ তুলেছে, অন্যদিকে তৃণমূল প্রোটোকল লঙ্ঘনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।