তৃতীয় বারের জন্য ক্ষমতায় এসেই করোনা মোকাবিলায় জেহাদ ঘোষণা করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শপথ গ্রহণের দিনই পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, করোনা মোকাবিলায় কোনও রকম গা ছাড়া মনোভাব সহ্য করবে না রাজ্য সরকার। করোনা বিধি লঙ্ঘন কারীদের কড়া শাস্তির মুখে পড়তে হবে।

এরই সঙ্গে কী কী নিয়ম মেনে চলতে হবে, তার পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন রাজ্যে লোকাল ট্রেন চলবে না। আংশিক লকডাউন সব এলাকায় জারি করা থাকবে। ব্যাংক, মেট্রো ও সরকারি-বেসরকারি যানবাহনের জন্য জারি করা হয়েছে বিশেষ নির্দেশিকা। 

এছাড়াও জানানো হয়েছে বিমান যাত্রীদের জন্য করোনা পরীক্ষার নেগেটিভ রিপোর্ট বাধ্যতামূলক। মাস্ক পরা, সঙ্গে স্যানিটাইজারের ব্যবহার বাধ্যতামূলক। কোনও রকম সামাজিক বা রাজনৈতিক বা ধর্মীয় জমায়েতে ৫০ শতাংশের বেশি লোক থাকতে পারবে না। 

করোনা মোকাবিলায় কুড়িটি দাওয়াই দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

১। বাজার করে এলে বা বাইরে থেকে এলে হাত ধুতে হবে এবং স্যানিটাইজ করতে হবে। 


২। মাস্ক পরতে হবে, মাস্ক না পরলে কড়া ব্যবস্থা 


৩। ৫০ শতাংশ হাজিরা সরকারি ও বেসরকারি অফিসে


৪। শপিং মল, বিউটি পার্লার, স্পোর্টস কমপ্লেক্স, সুইমিং পুল, জিম, শপিং কমপ্লেক্স, সিনেমা হল, রেস্তোরাঁ, অডিটোরিয়াম, স্পা সেন্টার ও হিলিং সেন্টার- পুরোপুরি বন্ধ


৫। সামাজিক, সাংস্কৃতিক, শিক্ষামূলক, বিনোদনমূলক জমায়েতে ৫০ শতাংশের বেশি লোক নয়


৬। বিবাহ অনুষ্ঠান,সাংস্কৃতিক জমায়েতে ৫০ জনের বেশি নয়। এই ধরণের জমায়েতের জন্য আগে থেকে অনুমতি নিতে হবে। অনুমোদন দেওয়ার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জমায়েত করতে হবে


৭। বাজার, রিটেল আউলেট, স্ট্যান্ড অ্যালোন শপ সকালে ৭টা থেকে ১০টা এবং বিকেল ৫টা থেকে ৭টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।


৮। সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় জমায়েত, সমাবেশে ৫০ শতাংশ ভিড়। মানতে হবে সামাজিক দূরত্ব বিধি, আগে থেকে অনুমতি থাকতে হবে। 


৯। বৃহস্পতিবার থেকে সমস্ত লোকাল ট্রেন বন্ধ


১০। সরকারি ও বেসরকারি বাস রাস্তায় নামবে ৫০ শতাংশ, মেট্রো রেলও একইভাবে ৫০ শতাংশ কমবে


১১। ৭ মে মধ্যরাত থেকে বিমানে করে বাইরের রাজ্য থেকে এলে লাগবে আরপিটিসিআর রিপোর্ট। এতে নেগেটিভ শব্দের উল্লেখ থাকতে হবে। বিমানে রাজ্যে অবতরণের ৭২ ঘণ্টা আগে এই করোনা পরীক্ষা করাতে হবে। ভুয়ো নেগিটিভ রিপোর্ট জমা করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর জন্য চেকিং হবে।


১২। বাইরে থেকে আসা বিমানযাত্রীদের শরীরে কোভিড ১৯ মিললে ১৪দিনের কোয়ারান্টিনে থাকতে হবে সরকারি ব্যবস্থায়।


১৩। দূরবর্তী ট্রেন এবং আন্তঃরাজ্য বাসে করে যারা রাজ্যে আসবেন তাঁদের আরপিটিসিআর-এর নেগেটিভ রিপোর্ট থাকতে হবে।


১৪। বউবাজারে সোনার দোকান খোলা থাকবে বেলা ১২টা থেকে বিকেল ৩টে পর্যন্ত। 


১৫। হোম ডেলিভারি ও অত্যাবশকীয় পণ্যের কেনাকাটায় উৎসাহ দিচ্ছে সরকার


১৬। অনলাইন অর্ডারের ডেলিভারিতে ছাড়


১৭। ব্যাঙ্ক খোলা থাকবে ১০টা থেকে বিকেল ২টা পর্যন্ত


১৮। শিল্প-কলকারখানা, কাঠ চেরাই-এর কল-এ ৫০ শতাংশ উপস্থিতি। বাকিদের ওয়ার্ক ফ্রম হোম


১৯। প্রতিদিন পরিস্থিতির পর্যালোচনা করা হবে এবং নতুন নতুন সিদ্ধান্তকে বাস্তবায়িত করা হবে।


২০। মাস্ক পরতেই হবে, সামাজিক দূরত্ব বিধি মানতে হবে, বারবার হাত ধুতে হবে, স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে হবে

এদিকে, বিগত কয়েক সপ্তাহে নিত্য তিন লক্ষের মাত্রা ছাড়াচ্ছে করোনা সংংক্রমণ। এই পরিস্থিতিতে খানিক স্বস্তির ছবি উঠে এসেছিল, যখন দৈনিক সংক্রমণের মাত্রা খানিক হলেও কমতে দেখা যায়। তবে আবারও নয়া রেকর্ড গড়ল করোনা। গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ৩,৮২,৩১৫। আর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪ মে ৩,৩৮,৪৩৯ জন। তবে বেড়েছে মৃত্যুর সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় প্রাণ হারিয়েছেন ৩,৭৮০ জন।