শেষ দফার ভোটের আগে ফের একবার কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে সরব হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগ তুললেন, বিজেপি-র কথায় কাজ করছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। হঁশিয়ারির সুরে মমতা কেন্দ্রীয় বাহিনীর উদ্দেশে বলেন, নির্বাচন কমিশনের নিয়ম মেনে কাজ করুক তারা। কেন্দ্রীয় বাহিনী কোনও আইন বহির্ভূত কাজ করলে ভয় না পেয়ে তার প্রতিবাদ করার জন্য রাজ্যের পুলিশ এবং সরকারি আধিকারিকদের নির্দেশ দিলেন মমতা।

এ দিন দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার নামখানায় তৃণমূল প্রার্থী চৌধুরী মোহন জাটুয়ার সমর্থনে সভা করেন মমতা। সেই সভা থেকেই মমতার অভিযোগ, "বিজেপি দাঙ্গাবাজ দল। দাঙ্গা ছাড়া এদের কোনও কাজ নেই। পাঁচ বছরে কী করছে জিজ্ঞেস করুন, একটা কথাও বলতে পারছে না। এদের একটা ভোটও দেবেন না।"

রবিবার ষষ্ঠ দফার নির্বাচনে ঘাটালের বিজেপি প্রার্থী ভারতী ঘোষের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সিআইএসএফ জওয়ানদের বিরুদ্ধে গুলি চালানোর অভিযোগ ওঠে। তাতে আহত হন এক গ্রামবাসী। এর আগে বীরভূমের দুবরাজপুরেও বুথের ভিতরে ঢুকে গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছিল কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে।

এ দিনের সভা থেকে ভোটে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে ফের সরব হন মমতা. তিনি বলেন,  "আমি কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সম্মান করি, কিন্তু যে কায়দায় বিজেপি কেন্দ্রীয় বাহিনীকে কাজে লাগিয়েছে, তাতে আমি দুঃখিত।"  এ দিনও মমতা অভিযোগ করেন, মালদহ দক্ষিণের বিজেপি প্রার্থীর স্বামী আর কে মিত্র অবসরপ্রাপ্ত অফিসার হয়েও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে বসে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে এ এরাজ্যে মোতায়েন করছেন।. ক্ষুব্ধ মমতা বলেন, "কেন্দ্রীয় বাহিনী এসে রাজ্য পুলিশের ঘাড়ের উপরে নিঃশ্বাস ফেলছে।" কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সতর্ক করে এর পরেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, " নির্বাচন কমিশনের নিয়মের মধ্যে থেকে কাজ করুন। গ্রামে ঢুকে, বুথের ভিতরে ঢুকে লোক মারতে যাবেন না। এটা আপনার দায়িত্ব নয়। রাজ্যের পুলিশও বুথের ভিতরে ঢুকে কাউকে মারতে পারে না। মনে রাখবেন, আইন শৃঙ্খলা রাজ্যের বিষয়।"

এর পরেই রাজ্যে পুলিশ অফিসার এবং আধিকারিকদের ভূমিকাতেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন মমতা।  প্রশ্ন করেন, কীভাবে তাঁদের চোখের সামনে কেন্দ্রীয় বাহিনী কীভাবে মানুষের গায়ে হাত দিচ্ছে? রাজ্যের পুলিশ-প্রশাসনের কর্তাদের উদ্দেশে মমতা প্রশ্ন করেন, "কেন আপনারা ভয় পাচ্ছেন, কাকে ভয় পাচ্ছেন? রাজ্যে একটা গণতান্ত্রিক সরকার আছে, কেন্দ্রে নির্বাচিত সরকার আছে। সংবিধান অনুযায়ী কাজ করুন, অত ভয় পাওয়ার কারণ নেই। ওদের চমকে-ধমকে ভয় পাবেন না. আমরা এখনও মরে যাইনি।"

বিজেপি ছাড়াও সিপিএম-কে আক্রমণ করেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, চৌত্রিশ বছর ধরে সিপিএম অত্যাচার করেছে, উন্নয়ন হয়নি। সিপিএম আর বিজেপি একই কয়েনের এপিঠ এবং ওপিঠ বলে অভিযোগ করেন মমতা। তাঁর দাবি, সিপিএম-কে ভোট দিলে বিজেপি-র হাত শক্ত হবে।