Om Birla: লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাবকে সমর্থন করবে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের চেয়ারপার্সন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশেই এই সিদ্ধান্ত। কংগ্রেস সাংসদদের আনা এই প্রস্তাব নিয়ে বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্বে উত্তাল হতে পারে সংসদ। 

লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাবকে সমর্থন জানাবে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস (AITC)। দলের চেয়ারপার্সন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশেই সাংসদরা এই পদক্ষেপ নেবেন বলে জানা গিয়েছে।

সংসদে কংগ্রেসের পাশে তৃণমূল

আগামী ৯ মার্চ থেকে বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্ব শুরু হচ্ছে। সেখানেই স্পিকারকে পদ থেকে সরানোর জন্য প্রস্তাব আনতে চলেছেন কংগ্রেসের তিন সাংসদ। তাঁদের এই পদক্ষেপকেই সমর্থন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তৃণমূল।

স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব

কংগ্রেস সাংসদ মহম্মদ জাভেদ, কোডিক্কুনিল সুরেশ এবং মাল্লু রবি লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছেন। তাঁদের দাবি, স্পিকার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী-সহ অন্য বিরোধী নেতাদের সভায় কথা বলতে দেননি। তাঁদের আরও অভিযোগ, বিরোধী দলের মহিলা সাংসদদের বিরুদ্ধে স্পিকার "অযাচিত মন্তব্য" করেছেন। কংগ্রেস সাংসদরা উল্লেখ করেছেন, জনস্বার্থের প্রশ্ন তোলায় বিরোধী সাংসদদের গোটা অধিবেশনের জন্য সাসপেন্ড করা হয়েছে। অথচ শাসক দলের সদস্যরা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীদের বিরুদ্ধে "অবমাননাকর" মন্তব্য করলেও তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

লোকসভার কার্যবিবরণীতে লেখা হয়েছে, "স্পিকার যেভাবে বিরোধী দলনেতা ও অন্য বিরোধী নেতাদের কথা বলতে বাধা দিয়েছেন... তাতে মনে হচ্ছে তিনি নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে ব্যর্থ, যা সংসদের সব পক্ষের আস্থা অর্জনের জন্য জরুরি।"

কংগ্রেসের অভিযোগ

কংগ্রেস সাংসদদের অভিযোগ, বিড়লা "সব বিতর্কিত বিষয়ে খোলাখুলিভাবে শাসক দলের পক্ষ নিচ্ছেন" এবং এই আচরণ লোকসভার স্বাভাবিক কাজকর্মের জন্য বিপজ্জনক।

হুইপ জারি

এদিকে, বিজেপি এবং কংগ্রেস— দুই দলই তাদের লোকসভার সাংসদদের জন্য 'থ্রি-লাইন হুইপ' জারি করেছে। ৯ থেকে ১১ মার্চ পর্যন্ত তাঁদের হাউসে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।

এর আগে বাজেট অধিবেশনের প্রথম পর্বে কংগ্রেস ওম বিড়লার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এনেছিল। এরপর স্পিকার নৈতিকতার কারণ দেখিয়ে জানান, প্রস্তাবটি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তিনি চেয়ারে বসবেন না।

২০২০ সালে পূর্ব লাদাখে চিনের সঙ্গে সংঘাত নিয়ে প্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল মনোজ মুকুন্দ নারাভানের একটি অপ্রকাশিত স্মৃতিকথা থেকে রাহুল গান্ধী উদ্ধৃতি দেওয়ার চেষ্টা করলে সংসদে তুমুল হট্টগোল শুরু হয়। এরপরই নিম্নকক্ষের নিয়ম ভাঙার অভিযোগে আটজন বিরোধী সাংসদকে বাকি অধিবেশনের জন্য সাসপেন্ড করা হয়েছিল। বাজেট অধিবেশনের প্রথম পর্ব লাগাতার হট্টগোলের জেরে বারবার মুলতুবি হয়ে গিয়েছিল।