লোকসভা নির্বাচনে হাতছাড়়া হয়েছিল পুরুলিয়া আসনটি। সেই পুরুলিয়াতেই এনআরসি এবং নাগরিকত্ব আইন বিরোধী মিছিল করে বিজেপি-র বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একই সঙ্গে জানিয়ে দিলেন, শুধু এনআরসি এবং নাগরিকত্ব আইন নয়, বাংলায় এনপিআর-এর কাজও করতে দেওয়া হবে না। 

কলকাতার পর নাগরিকত্ব বিরোধী আন্দোলনকে জেলাতেও ছড়িয়ে দিতে চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী। লোকসভা নির্বাচনে যে জায়গাগুলিতে তৃণমূলকে টেক্কা দিয়েছে বিজেপি, সেখানে গিয়েই বিজেপি বিরোধিতায় সুর চড়াচ্ছেন তৃণমূলনেত্রী। এ দিন পুরুলিয়ার ভিক্টোরিয়া স্কুল মোড় থেকে মিছিল শুরু করেন মমতা। সেখান থেকে হাটতলা মোড় হয়ে এমএসএ ময়দান, রেল স্টেশন, রথতলা হয়ে পোস্ট অফিস মোড়ে এসে শেষ হয় মিছিল। প্রায় চার কিলোমিটার রাস্তা হাঁটেন মমতা। মাঝে হাতে কাসর নিয়ে বাজাতেও দেখা যায় তাঁকে। 

মিছিলের শুরুতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ফের একবার বলেন, বাংলা তো বটেই, দেশ থেকেও একজনকে তাড়াতে দেওয়া হবে না। উল্টে সুযোগ পেলেই ঝাড়খণ্ডের মতো মানুষ বিজেপি-কে তাড়িয়ে দেবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। এনআরসি এবং নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে হওয়া ছাত্র আন্দোলনের পাশেও তিনি থাকবেন বলে বিজেপি-কে আরও চাপে ফেলার চেষ্টা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতা আরও জানিয়ে দেন, এনপিআর যদি এনআরসি-র প্রথম ধাপ হয়, তাহলে রাজ্যে এনপিআর-এর কাজও বন্ধ রাখা হবে। 

ক্ষুব্ধ মমতা বলেন, 'চেন্নাই, বিহার, রাজস্থান, ছত্রিশগড়, কেরল সব জায়গায় বিক্ষোভ হচ্ছে। ১৮ বছর হলেই যদি ছেলে- মেয়েরা ভোট দিতে পারে তাহলে প্রশ্ন তুলতে পারবে না কেন? দেশের গণতন্ত্রকেই এরা বিপদের মুখে ফেলে দিয়েছে। আপনারা শুধু ভোটার লিস্ট-এ ঠিকমতো নাম তুলে রাখুন। আমি কথা দিচ্ছি, একজনকেও দেশছাড়া হতে দেব না। আইন তো কেন্দ্রীয় সরকার বানায়, কিন্তু তা কার্যকর করে রাজ্য সরকার। এটা বিজেপি- র জমিদারি নয়।'

কটাক্ষ করে মমতা বলেন, 'দেশের এতজন প্রধানমন্ত্রীকে আপনারা ভোট দিয়ে জিতিয়েছেন, এখন বলছে সবাইকে দেশ থেকে তাড়িয়ে দেবে? ঝাড়খণ্ডের মানুষ বিজেপি-কে তাড়িয়ে দিয়েছে, মহারাষ্ট্রের মানুষও তাই করেছে, যেখানে মানুষ ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবে, সেখানেই থেকেই বিজেপি-কে তাড়িয়ে দেবে। গুজরাত, উত্তরপ্রদেশ আর কর্ণাটক ছাড়া বিজেপি কোথায় আছে?' 

তৃণমূলনেত্রী অভিযোগ করেন, এনআরসি আতঙ্কে বাংলায় ৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। উত্তরপ্রদেশে ২৩ জন বিক্ষোভকারীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী। 

পুরুলিয়া লোকসভা কেন্দ্রের সাতটি আসনের মধ্যে ছ'টিতেই পিছিয়ে ছিল তৃণমূল। ফলে আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে সেখানে যে কোনও মূল্যে হারানো জমি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। 
নাগরিকত্ব আইন এবং এনআরসি প্রতিবাদে বিক্ষোভ সেই লক্ষ কতটা পূরণ করবে, সেটাই এখন দেখার।