টানা সাত দফার ভোট. প্রবল গরমে এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত ছুটে বেড়াচ্ছেন তিনি। কিন্তু প্রবল গরম যে তার প্রাণশক্তিও শুষে নিচ্ছে, জনসভায় তা স্বীকার করে নিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দমদমের জনসভায় এসে মমতা বললেন, "এক এক সময় আজকে কী বার ভুলে যাচ্ছি, তারিখও মনে থাকছে না।" একই সঙ্গে স্বীকার করে নিলেন, দলের একশ্রেণির নেতা এবং জনপ্রতিনিধিদের আচরণে মানুষ ক্ষুব্ধ। তাঁদেরকে তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন বলে দাবি করেছেন তৃণমূল নেত্রী। 

দমদমের তৃণমূল প্রার্থী সৌগত রায়ের প্রচারে গিয়ে সভার শুরুতেই প্রবল গরমে দীর্ঘ ভোটগ্রহণ পর্ব নিয়ে সরব হন মমতা।  আগে দেখতাম ঠান্ডা জায়গায় পরে ভোট হতো, গরম জায়গায় আগে ভোট হতো। এখন দেখছি উল্টো! বিজেপি-র ইচ্ছেমতো ঠান্ডা জায়গায় আগে ভোট হয়ে গেল, গরম জায়গায় পরে ভোট হচ্ছে।" বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রামের মতো রাজ্যে তাপপ্রবাহ চলছে। সেখানে মানুষ রবিবার কীভাবে ভোট দেবেন, তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী।

বিজেপি-র বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, "বিশ্বাস করবেন না, এত গরমে বলতে বলতে গলা শুকিয়ে যাচ্ছে। বিজেপি এর জন্য দায়ী, পার্টি অফিস থেকে লিস্ট তৈরি করে দিয়ে বলেছে, বাংলায় সাত দফায় ভোট করো।"

মমতার অভিযোগ, এ রাজ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচনে হিংসার মিথ্যে অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনকে প্রভাবিত করে সাত দফার ভোট করাচ্ছে বিজেপি। মমতা পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, "ত্রিপুরায় পঞ্চায়েত ভোটে আটানব্বইটা আসনে ভোট হয়নি। উত্তর প্রদেশেও আশি শতাংশ বুথে নির্বাচন হয়না।" সিকিম, ছত্রিশগড়ের মতো রাজ্যেও ভোট ঠিকমতো হয় না বলে দাবি মমতার। এমন কী, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে পঞ্চায়েত নির্বাচনে কেউ দাঁড়াতে সাহস পায় না বলে অভিযোগ মমতার। তাঁর দাবি, বাংলায় পচাত্তর শতাংশ আসনে পঞ্চায়েত ভোট হয়েছে। তার পরেও বিজেপি পঞ্চায়েত নির্বাচনে হিংসা হযেছে বলে মিথ্যে প্রচার করছে বলে অভিযোগ করেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর দাবি, অনেক জায়গাতে বিরোধীরা প্রার্থী দিতে না পারাতেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় শাসক দল জয়ী হয়েছে।