President Droupadi Murmu: আন্তর্জাতিক সাঁওতাল কাউন্সিলের নবম সম্মেলনে যোগ দিতে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর উত্তরবঙ্গ সফর ঘিরে দেশজুড়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিজেপি-র (BJP) দাবি, রাজ্য সরকারকে ভারতের রাষ্ট্রপতি ও আদিবাসী সমাজের প্রতি দেখানো এই অসম্মানের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও (Prime Minister Narendra Modi) সরব।

DID YOU
KNOW
?
রাষ্ট্রপতিকে তোপ মমতার
রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর বিরুদ্ধে রাজনীতি করার অভিযোগ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

President Droupadi Murmu North Bengal Tour: উত্তরবঙ্গে আন্তর্জাতিক সাঁওতাল কাউন্সিলের নবম সম্মেলনে যোগ দিতে এসে অপমানিত হতে হয়েছে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে। এমনই দাবি করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Prime Minister Narendra Modi)। তিনি রাজ্য সরকার ও শাসক দলকে আক্রমণ করে বলেছেন, ‘এটা লজ্জাজনক ও অভূতপূর্ব ঘটনা। যাঁরা গণতন্ত্র ও উপজাতি সম্প্রদায়ের সশক্তিকরণে বিশ্বাস করেন, তাঁরা সবাই ব্যথিত। রাষ্ট্রপতি নিজে উপজাতি সম্প্রদায়ের মানুষ। তিনি ব্যথা ও যন্ত্রণা প্রকাশ করেছেন। এই ঘটনা সারা দেশের মানুষের মনে দুঃখের জন্ম দিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) সরকার সব সীমা অতিক্রম করে গিয়েছে। ওদের প্রশাসনই রাষ্ট্রপতির এই অপমানের জন্য দায়ী। একইসঙ্গে এটা দুর্ভাগ্যজনক যে সাঁওতাল সংস্কৃতির মতো এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে কোনওরকম গুরুত্ব দেয় না পশ্চিমবঙ্গ সরকার। রাষ্ট্রপতির দফতর রাজনীতির ঊর্ধ্বে। এই দফতরের পবিত্রতার প্রতি সবসময় শ্রদ্ধাশীল থাকা উচিত। আশা করি পশ্চিমবঙ্গ সরকার ও তৃণমূল কংগ্রেসের শুভবুদ্ধির উদয় হবে।’

শাসক দলকে আক্রমণ বিজেপি-র

রাজ্য বিজেপি-র (BJP West Bengal) পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ভারতীয় জনতা পার্টি শিলিগুড়ির নিকটবর্তী গোসাঁইপুরে আজ অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সাঁওতাল কাউন্সিলের সম্মেলনে ভারতের মাননীয় রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে যে অত্যন্ত অপমানজনক আচরণ করা হয়েছে, তার তীব্র নিন্দা জানায়। এই সম্মেলনটি মূলত শিলিগুড়ির বিধাননগরে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ’জায়গা কম' থাকার অজুহাতে অনুষ্ঠানস্থলটি প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে গোসাইপুরে সরিয়ে দেওয়া হয়। আশ্চর্যজনক বিষয় হল, পরবর্তীতে মাননীয় রাষ্ট্রপতি যখন মূল অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান, তখন তিনি নিজেই দেখেন যে মাঠটি লক্ষাধিক মানুষের সমাবেশের জন্য যথেষ্ট বড়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, প্রশাসন কেন এমন একটি দূরবর্তী স্থানে অনুষ্ঠানটি স্থানান্তর করল, যেখানে সাঁওতাল সমাজের বহু মানুষ পৌঁছাতেই পারেননি। এর থেকেও বেশি উদ্বেগজনক বিষয় হল, রাজ্য সরকার প্রতিষ্ঠিত প্রোটোকল সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করেছে। ভারতের রাষ্ট্রপতির আগমনের পরেও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বা রাজ্য সরকারের কোনও পূর্ণমন্ত্রী বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন না। মাননীয় রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানান শুধু শিলিগুড়ির মেয়র, যা দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদের প্রতি চরম অসম্মানের পরিচয় দেয়। এই ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করার পরিবর্তে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) রাষ্ট্রপতি সম্পর্কে অত্যন্ত অনুচিত ও আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন। একটি সাধারণ পরিবার থেকে নিজের পরিশ্রম ও নিষ্ঠার মাধ্যমে দেশের প্রথম আদিবাসী মহিলা রাষ্ট্রপতি হওয়া ব্যক্তিত্বের বিরুদ্ধে এই ধরনের মন্তব্য অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং নিন্দনীয়।'

Scroll to load tweet…

নিন্দায় অমিত শাহ, শুভেন্দু অধিকারী

রাজ্য বিজেপি-র পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, 'কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) বলেন যে এই ঘটনা তৃণমূল সরকারের অরাজক আচরণকে প্রকাশ্যে এনে দিয়েছে, যেখানে দেশের রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক মর্যাদারও কোনও সম্মান নেই। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে বলেন যে এই ঘটনাটি শুধু একটি সাংবিধানিক পদকেই নয়, বরং আদিবাসী সমাজকেও অপমান করেছে। রাষ্ট্রপতির প্রতি অসম্মান দেখিয়ে তৃণমূল সরকার আবারও তাদের আদিবাসী-বিরোধী মানসিকতার পরিচয় দিয়েছে। ভারতীয় জনতা পার্টি রাজ্য সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছে যে এই অগ্রহণযোগ্য আচরণের জন্য স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে হবে এবং ভারতের রাষ্ট্রপতি ও আদিবাসী সমাজের প্রতি দেখানো এই অসম্মানের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে।'

আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।