বেসরকারী পরীক্ষাগার ও হাসপাতালে করোনা পরীক্ষার খরচ বেঁধে দিল রাজ্য সরকার। এদিন নবান্ন থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, সরকারি ক্ষেত্রে করোনা পরীক্ষার কোনও খরচ লাগে না। সরকার থেকেই সেই পরীক্ষার খরচ মেটানো হয়। কিন্তু বেসরকারী ক্ষেত্রে এই পরীক্ষার খরচ অত্যন্ত বেশি বলে তাঁদের কাছে অভিযোগ জানাচ্ছিলেন অনেকে।

তিনি জানান, এতদিন অনেক জায়গাতেই ৪৫০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছিল। তা কমিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তা অর্ধেক করতে। অর্থাৎ, কোভিড টেস্টের খরচ ২২৫০ টাকার বেশি নেওয়া যাবে না। সেইসঙ্গে বেসরকারী হাসপাতালে প্রতিদিন পিপিই এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জামের জন্য বেহিসেবিভাবে টাকা নেওয়া হচ্ছিল। রাজ্য সরকারের নয়া নির্দেশিকা অনুযায়ী এরজন্য এখন থেকে দিন প্রতি ১০০০ টাকার বেশি নেওয়া যাবে না। এছাড়া ভর্তি থাকা রোগীদের ক্ষেত্রে ডাক্তারি পরামর্শে জন্যও ১০০০ টাকার বেশি নেওয়া যাবে না। মমতা দাবি করেন, অনেক হাসপাতালেই এই বাবদ ৫০০০ টাকা নেওয়া হচ্ছিল।

অর্থাৎ সব মিলিয়ে দিন প্রতি কোভিড রোগীদের চিকিৎসার জন্য মোট খরচ পড়বে ৪২৫০ টাকা। তবে বেড ভাড়া, আইসিইউ বেড ভাড়া বা ভেন্টিলেশন ব্যবস্থার খরচ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনও নির্দেশ দেওয়া হয়নি। ফলে এখনও এই বিষয়গুলির খরচ নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষই।   

এদিন স্বাস্থ্যখাতে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ছাড়াও পরিবহণ সমস্যা, কলকাতা মেট্রো সমস্যা এবং লকডাউন বিধির সামান্য পরিবর্তনের কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। সেই সঙ্গে বিদেশি বিমান ও আন্তঃরাজ্য বিমানে যাত্রীদের ক্ষেত্রে করোনা নিয়ন্ত্রণের বিধি যথাযথ ভাবে মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি। তিনি বলেন, বিমানের যাত্রীদের ৭ দিন কোয়ারেন্টাইনে রাখা বা তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার বিষয়ে বড়সড় গাফিলতি থেকে যাচ্ছে। এটা চলতে থাকলে রাজ্যের পক্ষে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলা করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। এই অবস্থায় রাজ্যের পরামর্শ ১৫ দিনে একটি আন্তঃরাজ্য বিমান ও ১ মাসে ১টি করে আত্নর্জাতিক বিমান চালানো হোক।