বাসভাড়া বাড়াতে পারবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে শুক্রবার বাস-মালিকদের সরকারি তরফে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস-ও দিলেন তিনি।

এদিন নবান্ন থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, বাসভাড়া সরকার আর বাড়াবে না। এখন রাস্তায় ২৫০০ বাস ও মিনিবাস চলছে। তবে যতগুলি আসন, ততজনই যাত্রী - এই ফর্মুলায় বাসমালিকদের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। তা মেটাতে সরকারের পক্ষ থেকে বাস প্রতি মাসে মাসে ১৫০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। ৩ মাস ধরে ৬০০০ বাসকে এই সহায়তা করা হবে। এর জন্য মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন মোট ২৭ হাজার কোটি টাকা খরচ হবে সরকারের। তবে ওই ৬০০০ বাসই পথে নামাতে হবে। এর সঙ্গে সঙ্গে বাস চালক ও কন্ডাকটরদের স্বাস্থ্যসাথী বিমা প্রকল্পর আওতায় আনা হল।

তবে এরপরেও পরিবহন ক্ষেত্রের সমস্যা মেটার আশা দেখা যাচ্ছে না। তৃণমূল পরিচালিত বাসমালিকদের সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারে কাছ থেকে যে আর্থিক প্যাকেজ আনার দাবি করা হয়েছিল তা মুখ্যমন্ত্রী দিতে পারেননি, কিন্তু, তাঁর পক্ষ থেকে যে সহায়তার কথা জানানো হয়েছে, তাতে অনেকটাই সমস্যা মিটবে। ৬০০০ না হলেও ৫০০০ বাস নামবে কলককাতায়। তবে জেলায় যে আরও ৪৬০০০ বাস রয়েছে, তাদের কী হবে তা জানা যায়নি।

অন্যদিকে বাসমালিকদের আরেক সংগঠন জানিয়েছে, এই ভর্তুকিতে কোনও লাভ হবে না। কলকাতা থেকে দিঘার বাসযাত্রার উদাহরণ দিয়ে বলা হয়েছে, একেকটি যাত্রায় ১২০০০ টাকা খরচ হয়। আর আয় হচ্ছে ৫০০০ টাকা। এই বিপুল পরিমাণ ঘাটতি স্বীকার করেই গত একমাস তাঁরা বাস চালিয়েছেন। কিন্তু, এখন আর তা সম্ভব হচ্ছে না। মুখ্যমন্ত্রীর মাসিক ১৫০০০ টাকা ভর্তুকিতে সেই ক্ষতিপূরণ সম্ভব নয়। তাঁরা ভর্তুকি চান না বলেও জানিয়েছেন। বাসভাড়া বাড়ালেই একমাত্র এই সমস্যার সমাধান হতে পারে।