বিদ্যাসাগর কলেজে তাণ্ডবের জন্য বিজেপি-কে দায়ী করলেন মমতা ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি নকশাল আমলেও এমন ঘটেনি, বললেন মুখ্যমন্ত্রী

বিদ্যাসাগর কলেজে ভাঙচুরের ঘটনায় বিজেপি--কে পাল্টা হুমকি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহকে চ্যালেঞ্জের সুরে তিনি বললেন, "বাংলার নেতা, মনীষীদের গায়ে হাত দিলে ছাড়ব না. চাইলে দিল্লি গিয়ে তোমাদের ঘর দখল করতে পারি।"

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

বিদ্যাসাগর কলেজে ভাঙচুরের ঘটনার পরে সেখানে যান মুখ্যমন্ত্রী। কলেজের শিক্ষক, অধ্যাপকদের পাশাপাশি কথা বলেন আহত ছাত্রদের সঙ্গে। কলেজ থেকে বেরিয়ে এসে তিনি বলেন, "লজ্জায় মাথা হেঁট হয়ে যাচ্ছে, নিন্দার ভাষা নেই। পুরো কলেজ ভেঙে তছনছ করা হয়েছে। দুশো বছরের পুরনো বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙা হয়েছে। ছাত্র-ছাত্রীদের মারধর করা হয়েছে। জন্ম থেকে কলকাতায় আছি, এমন লজ্জাজনক ঘটনা দেখিনি। বিহার, রাজস্থান থেকে কোটি কোটি টাকা করে লোক আনা হয়েছে। আমাদের একটা অনুমিত দেয় না নির্বাচন কমিশন। আর রাস্তার পাশে দেখুন কোটি কোটি টাকা খরচ করে হোর্ডিং লাগানো হয়েছে।"

মমতা বলেন, "গণতান্ত্রিক অধিকার সবার আছে। অমিত শাহের বিরুদ্ধে কেন প্রতিবাদ করা যাবে না? আমার বিরুদ্ধেও তো অনেক সময় পোস্টার দেখানো হয়।"

এর পরে বেহালার জনসভা থেকে ঘটনা নিয়ে মুখ খোলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙচুরের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং বিজেপি সভাপতি অমিত শাহকে গুন্ডা বলে আক্রমণ করেন তৃণমূল নেত্রী। 

ক্ষুব্ধ মমতা বলেন, "বিজেপি-র কিছু গুন্ডা হাতে দান্ডা নিয়ে গিয়ে বিদ্যাসাগর কলেজে আগুন লাগিয়েছে, বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙচুর করেছে। এতবড় লজ্জা কলকাতার বুকে ঘটেনি, এমনকী নকশালদের আমলেও ঘটেনি। আমরা কিন্তু এটা ছড়াব না। বিজেপি-কে ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে জবাব দেব. বাংলার নেতা, মনীষীদের গায়ে হাত দিলে আমি ছাড়ব না। একটা মোদী গুন্ডা আর একটা অমিত শাহ গুন্ডা! যারা বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙে, তাদের গুন্ডা ছাড়া আর কী বলব। আজকে আপনারা আমাকে আর আটকে রাখতে পারবেন না। আপনাদের ভাগ্য ভাল আমার মাথা এখনও ঠান্ডা আছে. জেনে রাখুন, চাইলে গিয়ে আপনাদের দিল্লির ঘর দখল করেত পারি।"

বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার প্রতিবাদে বুধবার কলকাতায় প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দিয়েছে তৃণমূল। মনীষীদের ছবি নিয়ে মিছিল করা হবে। সেই মিছিলে থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।