যত সময় যাচ্ছে, ততই যেন ছড়াচ্ছে অশান্তির আগুন। পরিস্থিতি যে রাজ্য প্রশাসনের হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে, রাজ্য সরকারের শীর্ষ স্তরের তৎপরতাতেই তা স্পষ্ট। রাজ্যে বেলাগাম অশান্তি নিয়ন্ত্রণে কালীঘাটের বাড়িতে জরুরি প্রশাসনিক বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কড়া হাতে পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য পুলিশ- প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের নির্দেশ দিলেন মমতা। 

শুক্রবার থেকে বিক্ষোভের নামে রাজ্য জুড়ে যে অশান্তি শুরু হয়েছিল, তা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বেড়েই চলেছে। প্রথমে এই বিক্ষোভকেই নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের প্রতিবাদে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত বিক্ষোভ বলে দাবি করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু গত বাহাত্তর ঘণ্টায় বেলাগাম তাণ্ডবের সাক্ষী থেকেছে গোটা রাজ্য। এই পরিস্থিতিতেও পুলিশ বিক্ষোভকারীদের নিয়ন্ত্রণে নমনীয় অবস্থানই নিয়েছে বলে অভিযোগ বিরোধীদের। আমজনতার মনেও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ জন্মাচ্ছে। রবিবারও দিনভর রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে উন্মত্ত জনতা আগুন জ্বালিয়ে, পথ অবরোধ করে, ট্রেন, স্টেশনে ভাঙচুর চালিয়ে ইচ্ছেমতো বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি করেছে। 

পরিস্থিতি মোকাবিলায় এ দিন সন্ধ্যায় দীর্ঘক্ষণ নিজের কালীঘাটের বাড়িতে প্রশাসনিক কর্তাদের ডেকে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, এডিজি (আইনশৃঙ্খলা), রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং রাজ্যের নিরাপত্তা উপদেষ্টা। ওই বৈঠকেই বিশদে রাজ্যের পরিস্থিতি সম্পর্কে পুলিশ, প্রশাসনের কর্তাদের থেকে খবর নেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি কড়া হাতে বিক্ষোভকারীদের দমন করার নির্দেশও তিনি দিয়েছেন বলে খবর। সূত্রের খবর, কোথাও কোনও গন্ডগোল পাকানোর চেষ্টা হলেই পুলিশকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়। 

ইতিমধ্যেই রাজ্যের বেশ কয়েকটি জেলায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছে রাজ্য সরকার। প্রশ্ন উঠছে, এই তৎপরতা শুরুতেইব দেখালে পরিস্থিতি এতটা হাতের বাইরে যেত কী?