শুরু হয়েছে দুয়ারে ত্রাণ কর্মসূচিকিন্তু তাতে আবেদন পড়ছে সব অবাক করাকারোর ছাগল মারা গিয়েছে যশের আতঙ্কেকেউ মাছ মরার জন্য ক্ষতিপূরণ চাইছেন ৩ কোটির 

ঘূর্ণিঝড় যশ (Cyclone Yaas)-এর দাপটে দক্ষিণবঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলা বিপর্যস্ত। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে ঘূর্ণিঝড়-ধ্বস্ত জেলাগুলিতে শুরু হয়েছে দুয়ারে ত্রাণ কর্মসূচি। ব্যতিক্রম নয়, পশ্চিম মেদিনীপুরও। জেলা জুড়ে ব্লকে ব্লকে এর জন্য শিবির খোলা হয়েছে। সেইসব শিবিরে ত্রাণ চেয়ে আবেদন করছেন সাধারণ মানুষ। আর সেইসব আবেদনপত্রের ভিড়েই মিশে রয়েছে বিস্ময়কর বেশ কিছু আবেদন, যেগুলি পড়ে হেসে কূল পাচ্ছেন না দুয়ারে দুয়ারে ত্রাণ পৌঁছে দিতে আসা সরকারি আধিকারিকরা।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

কীরকম সেইসব আবেদনপত্র? সবং ব্লকের কলন্দা গ্রামের বাসিন্দা তাপস কর যেমন গত ৪ জুন বিডিও-কে উদ্দেশ্য করে ক্ষতিপূরণের একটি আবেদন পত্র জমা দিয়েছেন। তিনি সেই পত্রে বলেছেন, 'বিগত ইং ২৬.০৫.২১ তারিখে ইয়াস ঝড়ের কারণে আমার ছাগল আতঙ্কে মারা গেছে। ছাগলের ক্ষতিপূরণ দেন, আপনার কাছে বাধিত থাকিব।' (ভাষা ও বানান অপরিবর্তিত)। আরও একটি বিস্ময়কর আবেদন করেছেন বিলকুয়া গ্রামের বাসিন্দা রামপদ জানা। তিনি মৎসচাষ করেন। তাঁর দাবি, ঘূর্ণিঝড়ে তাঁর বহু মাছ মারা গিয়েছে। তার জন্য তিন কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ চেয়েছেন তিনি!

এই বিষয়ে সবং-এর বিডিও তুহিনশুভ্র মোহান্তি জানিয়েছেন, 'নানা রকমের আবেদনপত্র জমা পড়েছে, সব খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।' তবে প্রাণী সম্পদ বিকাশ দফতরের সবং পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ আবু কালাম বক্স কিন্তু আবেদনকারীদের পাশেই দাঁড়িয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, 'আবেদনকারীরা সকলেই সরল গ্রামবাসী। গ্রামীন অর্থনীতিতে ছাগল যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। তাই ক্ষতিপূরণ চেয়েছেন এভাবে। আবার গ্রামবাসীদের অনেকেই জানেন না কটা শূন্য বসালে কত টাকা হবে। তাই ভুল করে ক্ষতিপূরণ হিসাবে ৩ কোটি টাকা চেয়েছেন। তবে যে যাই লিখুক সবটা খতিয়ে দেখে তবেই ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।'

তাপস কর কিন্তু, ছাগল মারা যাওয়ার জন্য ক্ষতিপূরণ পাওয়ার বিষয়ে খুবই আশাবাদী। এশিয়ানেট নিউজ বাংলার প্রতিনিধিকে তিনি জানিয়েছেন, 'বাড়িতে ছাগল রাখা ছিল। ঝড় বৃষ্টির রাতে আবহাওয়া খুব ভয়ঙ্কর ছিল। পরে ছাগলটিকে মরা অবস্থায় পাই। আমার অনুমান ঝড়ের আতঙ্কেই মারা গিয়েছে ছাগলটি। তাই সরকারের কাছে ক্ষতিপূরণ চেয়েছি।'