পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারের কয়েকটি জেলা নিয়ে নতুন কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল তৈরি করার পরিকল্পনা করেছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। ধর্মতলার ধর্না মঞ্চ থেকে অভিযোগ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার তিনি বলেন, "বাংলা ও বিহার ভাগ করে নাকি কেন্দ্রশাসিত করবে, করতে দেব না।"

পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারের কয়েকটি জেলা নিয়ে নতুন কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল তৈরি করার পরিকল্পনা করেছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। ধর্মতলার ধর্না মঞ্চ থেকে অভিযোগ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার তিনি বলেন, "বাংলা ও বিহার ভাগ করে নাকি কেন্দ্রশাসিত করবে, করতে দেব না।" সম্প্রতি, কয়েকটি রাজ্যে রাজ্যপাল ও লেফটেন্যান্ট গভর্নর বদল করেছে কেন্দ্র। পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল হয়েছেন আরএন রবি। এছাড়াও, বিহারে আরিফ মহম্মদের জায়গায় এসেছেন অবসরপ্রাপ্ত লেফটেনান্ট জেনারেল সৈয়দ আটা হাসনাইন (Lt. Gen. Syed Ata Hasnain)। এই দুই নিয়োগ নিয়েই যাবতীয় জল্পনার সূত্রপাত হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন এই দুই নিয়োগের পিছনে কেন্দ্রের কোনও পরিকল্পনা রয়েছে।

ধর্মতলায় ঠিক কী বলেছেন মমতা

তিনি অভিযোগ করেন, কেন্দ্র সরকার 'বঙ্গভঙ্গ' করার পরিকল্পনা করছে। বাংলা ও বিহার নিয়ে এই পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন মমতা। এরপরেই মুখ্যমন্ত্রীর হুঙ্কার ইউনিয়ন টেরিটরি তৈরি করতে দেব না। মমতা বলেন,"বাংলা ও বিহারকে ভাগ করে নাকি ইউনিয়ন টেরিটোরি করবে। আরে বাংলায় হাত দিয়ে দেখো। ওদের ধান্দা হচ্ছে বাংলাকে ভাগ করা। আবার একটা বঙ্গভঙ্গ করা। বিহারকে একবার ভাগ করেছে। বিহার থেকে ঝাড়খণ্ড হয়েছে। আবার বিহারকেও ভাগ করার চেষ্টা করছে। ডাবল ইঞ্জিন সরকার যেখানেই থাকবে সেখানেই লুটেপুটে খাবে। এটাই ওদের কাজ। করছে লুট, বলছে ঝুট।"

বিহার ও বাংলার কোন কোন জেলা

সূত্রের খবর, পশ্চিবঙ্গের মালদা, উত্তর দিনাজপুর ও বিহারের পূর্ণিয়া, আরারিয়া, কিষাণগঞ্জ, কাটিহার নিয়ে পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল গঠন করা হতে পারে। এক্ষেত্রে যুক্তি হল, বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের প্রবেশের ফলে এই জেলাগুলির জনবিন্যাস পাল্টে গিয়েছে। কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল না করা হলে এখানবার আদি বাসিন্দাদের অস্তিত্ব থাকবে না। উল্লেখ্য, কয়েক বছর আগে স্বাধীনতা দিবসে লাল কেল্লা থেকে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী অনুপ্রবেশকারীদের খুঁজে বের করার জন্য একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ডেমোগ্রাফি মিশন গঠনের কথা ঘোষণা করেছিলেন। তিনি স্পষ্টভাবে তাঁর উদ্দেশ্য স্পষ্ট করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, "কোনও দেশ নিজেকে অনুপ্রবেশকারীদের হাতে তুলে দিতে পারে না। বিশ্বের কোনও জাতি তা করে না। তাহলে আমরা কীভাবে ভারতকে তা করতে দেব?" তিনি বলেছিলেন যে এই মিশনের মাধ্যমে দেশের উপর বর্তমানে যে গুরুতর সঙ্কট আসন্ন তা ইচ্ছাকৃত এবং সময়সীমাবদ্ধ পদ্ধতিতে মোকাবেলা করা হবে।

এর আগে সংসদে দাঁড়িয়ে বাংলা ও বিহারের পাঁচ জেলা নিয়ে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের দাবি তুলছিলেন বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে। মালদা, মুর্শিদাবাদের সঙ্গে বিহারের কিষাণগঞ্জ, আরারিয়া, কাটিহার নিয়ে পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের দাবি তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের প্রবেশের ফলে এই পাঁচ জেলার জনবিন্যাস পাল্টে গিয়েছে। কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল না করা হলে হিন্দুদের অস্তিত্ব থাকবে না।

কেন্দ্রশাসিক অঞ্চল কী

কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হল ভারতের একটি ফেডারেল অঞ্চল যা, একটি রাজ্যের বিপরীতে, সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকার দ্বারা পরিচালিত হয়। কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলটি এমন একটি অঞ্চলের জন্য গঠিত হয়, যা একটি স্বাধীন রাজ্য হওয়ার জন্য খুব ছোট এবং যার স্বতন্ত্র সাংস্কৃতিক পরিচয় রয়েছে, অথবা কৌশলগত বা জাতীয় গুরুত্ব রয়েছে। যদিও একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হল একটি প্রশাসনিক ইউনিট, যা ভারতের রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত একজন প্রশাসক বা লেফটেন্যান্ট গভর্নর দ্বারা সরাসরি নিয়ন্ত্রিত এবং পরিচালিত হয়। এখানে রাজ্যগুলির মতো স্বায়ত্তশাসনের স্তর নেই।