দলীয় নেতাদের ক্ষোভ, দলের অস্বস্তি যাই হোক না কেন, কাটমানি এবং দুর্নীতি নিয়ে তিনি তাঁর অবস্থানে অনড়ই থাকছেন। দলীয় বৈঠকে ফের একবার তা জেলার নেতাদের বুঝিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের নেতাদের সতর্ক করে বলে দিলেন, কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হলেই গ্রেফতার করা হবে। 

এ দিন তৃণমূল ভবনে পশ্চিম মেদিনীপুরে দলের নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে পর্যালোচনা বৈঠকে বসেন তৃণমূল নেত্রী। সেখানে দলের জেলা নেতৃত্বকে ডাকা হয়েছিল। এবারের লোকসভা ভোটে মেদিনীপুর কেন্দ্রে হারতে হয়েছে তৃণমূলকে। ঘাটাল কেন্দ্রে জিতলেও বেশ কিছু বিধানসভায় পিছিয়ে গিয়েছে শাসক দল। 

দলের জেলা নেতাদের একাংশের দুর্নীতি এবং মানুষের থেকে দূরে সরে যাওয়াতেই যে এমন ফল হয়েছে, এ দিনের বৈঠকে তা স্পষ্ট করে দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের নেতাদের উদ্দেশে তিনি আয়নায় মুখ দেখার পরামর্শ দেন মুখ্যমন্ত্রী। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় বালি খাদানের কারবারের সঙ্গে দলের অনেক নেতাই যে জড়িয়ে তা মুখ্যমন্ত্রীর কানে এসেছে। কোনও নেতা বালি খাদানের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারবেন না বলে জানিয়ে দেন দলনেত্রী। দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত নেতাদের নিজেদের শুধরে নেওয়ার পরামর্শ দেন মুখ্যমন্ত্রী। কোনও সরকারি প্রকল্প থেকে টাকার ভাগ নিলে বা দুর্নীতির সঙ্গে জড়ালে যে গ্রেফতার করা হবে, দলীয় নেতাদের তাও জানিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। 

এ দিনের বৈঠকে গড়বেতার বিধায়ক আশীষ চক্রবর্তীকে ভর্ৎসনা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সবাইকে নিয়ে চলার জন্য তাঁকে নির্দেশ দেন তিনি। দলের জেলা সভাপতি অজিত মাইতির ভূমিকাতেও অসন্তোষ প্রকাশ করেন মমতা। জেলার সাংগঠনিক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে। জেলার জন্য নতুন কোর কমিটি গড়ে দিয়েছেন তৃণমূলনেত্রী। পুরনো কর্মীদের দলে গুরুত্ব দিয়ে ফিরিয়ে নেওয়া এবং নিয়মিত পার্টি অফিস খোলার নির্দেশও দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।