বনধের ইস্যুকে সমর্থন করেন। কিন্তু বনধকে নয়। আগেই এ কথা জানিয়ে দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ দিন বাংলা জুড়ে বনধের ব্যাপক প্রভাব পড়ার পরে রাজ্য সিপিএম নেতৃত্বের কড়া সমালোচনা করলেন তিনি। মমতার দাবি, এই ধরনের হিংসাত্মক এবং নেতিবাচক রাজনীতি করেই বাংলায় সাইনবোর্ডে পরিণত হয়েছে সিপিএম। কেরলের সিপিএম এর থেকে অনেক ভাল বলেও মন্তব্য করেন ক্ষুব্ধ মমতা। শুধু তাই নয়, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। 

এ দিন সকাল থেকেই বনধ ঘিরে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অশান্তির খবর আসতে থাকে। জনজীবনেও ব্যাপক প্রভাব পড়েছে কলকাতা এবং শহরতলিতে। বনধের সাফল্যে উল্লসিত রাজ্য সিপিএম নেতৃত্ব। বিভিন্ন জায়গাতে পুলিশের সঙ্গে সংঘাচে জড়িয়েছেন বনধ সমর্থকরা। রাস্তায় বেরিয়ে বাধার মুখে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কংগ্রেসের তুলনায় সক্রিয় ছিলেন বামেরাই। কিছু ক্ষেত্রে এসইউসিআই-ও অবরোধ করেছে। 

আরও পড়ুন- বনধের ব্যাপক প্রভাব বাংলা জুড়ে, অক্সিজেন পেল কি বাম- কংগ্রেস, দেখুন ছবিতে

আরও পড়ুন- দেখা নেই বেসরকারি বাস- ট্যাক্সির, বনধের মোকাবিলায় শাসক দলের ভূমিকায় ধোঁয়াশা

জোর করে বনধ সফল করার এই প্রচেষ্টারই কড়া সমালোচনা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গঙ্গাসাগরে তিনি বলেন, 'ক্ষমতা থাকলে দিল্লিতে গিয়ে বনধ করুক না। দিল্লিতে ছাত্রছাত্রীরা আন্দোলন করছে। আমরা ছাত্রদের আন্দোলনের পাশে আছি। দিল্লিতে গিয়ে কটা মিটিং করেছে, বনধ করেছে? বাংলা শান্তিতে আছে। যা তৈরি করছি সব গুন্ডামি করে ভেঙে দিচ্ছে। উন্নয়নকে সহ্য করতে পারছে না। চৌত্রিশ বছরে তো একটাও আন্দোলন করেনি। এই করে করে বাংলায় বাংলায় দলটাকে সাইনবোর্ডে পরিণত করেছে। এর থেকে কেরল সিপিএম অনেক ভাল। অন্তত ওরা গঠনমূলক কিছু করে। এরা সর্বনাশ ছাড়া কিছু করতে পারে না।'

ক্ষুব্ধ মমতা বলেন, বাংলায় না করে অন্যান্য রাজ্যে গিয়ে এমন বিরোধিতা করে দেখাক সিপিএম নেতৃত্ব। একই সঙ্গে বনধ সমর্থকদের উদ্দেশে হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। আমি মারপিট, হিংসায় বিশ্বাস করিনা। যাঁরা এসব করছেন, বলব গণতান্ত্রিক উপায়ে আন্দোলন করুন। পুলিশ আইন অনুযায়ী যা ব্যবস্থা নেওয়ার নেবে। যাঁরা সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করছে, তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেবে পুলিশ।' মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, বাংলায় যেখানে শাসক দল, রাজ্য সরকার বনধের ইস্যুগুলিকে সমর্থন করছে, সেখানে কেন এভাবে জনজীবন বিপর্যস্ত করছে বনধ সমর্থনকারীরা?