ময়নাগুড়িতে দলীয় কার্যালয়ে একটি সভা চলাকালীন যুব সমাজকে বার্তা দিতে গিয়ে বিশ্বজিৎ সেন বলেন, সরকার যে ভাতার টাকা দিচ্ছে, তা দিয়ে যুবকদের গুটখা কেনার খরচ উঠে যাবে। এই মন্তব্যকে হাতিয়ার সুর চড়িয়েছে বিরোধী বিজেপি।
রাজ্য সরকারের সদ্য ঘোষিত ‘যুব সাথী’ প্রকল্পের ভাতা নিয়ে বেফাঁস মন্তব্য করে শোরগোল ফেলে দিলেন ময়নাগুড়ির এক তৃণমূল নেতা। জলপাইগুড়ি জেলার ময়নাগুড়ি টাউন ব্লক তৃণমূল সভাপতি বিশ্বজিৎ সেনের ওই বক্তব্যের ভিডিও ভাইরাল হতেই জেলাজুড়ে নিন্দার ঝড় বয়ে যাচ্ছে। ময়নাগুড়িতে দলীয় কার্যালয়ে একটি সভা চলাকালীন যুব সমাজকে বার্তা দিতে গিয়ে বিশ্বজিৎ সেন বলেন, সরকার যে ভাতার টাকা দিচ্ছে, তা দিয়ে যুবকদের গুটখা কেনার খরচ উঠে যাবে। এই মন্তব্যকে হাতিয়ার সুর চড়িয়েছে বিরোধী বিজেপি।
কী বলেছেন তৃণমূল নেতা
আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি তৃণমূলের জয়হিন্দ বাহিনীর সভা রয়েছে জলপাইগুড়িতে। রবিবার তারই প্রস্তুতি বৈঠক ছিল ময়নাগুড়ি তৃণমূল পার্টি অফিসে। সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ময়নাগুড়ি টাউন ব্লক তৃণমূল সভাপতি বিশ্বজিৎ সেন বলেন, 'দিদি আমাদের কল্পতরু ভাবে বিভিন্ন প্রকল্পের সুযোগ সুবিধা দিলেন। মহিলাদের ভোটটা একটা দৃঢ় জায়গায় চলে গেল। পাশাপাশি যুব সমাজের ভোটটা একটু নেগেটিভ জায়গায় ছিল। সেটাও কিন্তু আমাদের যুবসাথীর মাধ্যমে একটা বড় বার্তা দিলেন দিদি। সেটা আমাদের প্রচারে তুলে ধরতে হবে। আজকালকার ইয়ং ছেলেপিলেদের বড় অংশ পান গুটখা খায়। তাদের ওই জায়গায় সাহায্য হবে। বলতে হবে, তোর তো মাসে এক হাজার টাকা তো গুটখারই খরচ, সেই টাকা তো দিদি দিয়ে দেবেন।'
ভাইরাল ভিডিও ঘিরে শোরগোল পড়তেই শাসকদল দাবি করে, ভিডিওটি AI-দিয়ে তৈরি করেছে বিজেপি। জলপাইগুড়ির যুব তৃণমূলের জেলা সভাপতি রামমোহন রায় বলেন, ‘বিশ্বজিৎ সেনের নেতৃত্বকে বিজেপি ভয় পাচ্ছে। এটা AI দিয়ে বানানো ভিডিও। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকল্পকে খাটো করতেই এটা বানানো হয়েছে।’
বিজেপির কটাক্ষ
তৃণমূল নেতার এই মন্তব্যে তীব্র কটাক্ষ করেছে বিজেপি। তাদের মতে, আসল কথা বেরিয়ে এসেছে। এই ঘোষণার মাধ্যমে সরকার বুঝিয়ে দিয়েছে, আগামী ৫ বছর সরকার কোনও পাকা চাকরি দেবে না। রাজ্য বিজেপির নেত্রী কেয়া ঘোষ বলেন, ‘যেখানে সারা বিশ্ব, দেশ নেশামুক্তির কথা বলছে তৃণমূল ছেলে মেয়েদের গুটখা খেতে বলছে। গুটখা থেকে বলছে যাতে ট্যাক্সের টাকাটা সরকারি কোষাগারে আসে। মুখ্যমন্ত্রী একসময় সিগারেট বেশি করে খেতে বলেছিলেন। সেখানে তৃণমূলের ছোটখাট নেতারা গুটখা খেতেই বলবেন স্বাভাবিক। এই রাজ্যে ঢালাও মদের লাইসেন্স দেওয়া হয়। নেশাতে ডুবে থাকো, অস্বাস্থ্যকর কাজ করো, আর ভোট দাও। এদের যুবসমাজের স্বাস্থ্য, ভবিষ্যত নিয়ে কোনও চিন্তা নেই। শুধু চিন্তা ভোটব্যাঙ্কের।’


