সবাই ভেবেছিলেন একুশেবিজেপি-র র মঞ্চ থেকেই একুশের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি-কে মোকাবিলার বার্তা দেবেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলের পরামর্শদাতা প্রশান্ত কিশোরের পরামর্শের ছাপও  শেষ পর্যন্ত বিশেষ পাওয়া যায়নি তৃণমূলনেত্রীর  ভাষণে। তবে একুশের মঞ্চ থেকে মমতা জানিয়ে দিলেন, আগামী ২৯ জুলাই বড় ঘোষণা করবেন তিনি। বিজেপি-র মোকাবিলায় কীভাবে মানুষের সঙ্গে নিবিড় জনসংযোগ গড়ে তুলতে হবে, সেদিনই তিনি সেই বার্তা দেবেন বলে জানিয়ে দিয়েছেন তৃণমূলনেত্রী। 

এমনও শোনা গিয়েছিল, একুশে জুলাইয়ের মঞ্চে থাকতে পারেন তৃণমূলের রাজনৈতিক পরামর্শদাতা প্রশান্ত কিশোর। শেষ পর্যন্ত অবশ্য তাঁকে প্রকাশ্যে অন্তত দেখা যায়নি। 

লোকসভা নির্বাচনে বিপর্যয়ের পরই সাধারণ মানুষের সঙ্গে জনসংযোগ বাড়ানোর জন্য দলীয় সাংসদ, বিধায়ক থেকে শুরু করে দলীয় নেতাদের নির্দেশ দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জেলায় জেলায় শুরু হয়েছিল তৃণমূলের জনসংযোগ যাত্রা। এ দিন একুশে জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে তৃণমূলনেত্রী বলেন, 'আমরা ২৯ জুলাই বড় কর্মসূচি ঘোষণা করব। জনসংযোগ যাত্রাকে কীভাবে বুথ স্তরে মানুষের কাছে নিয়ে যাওয়া যায়, সেই ঘোষণা করা হবে। রাজনীতি করুন চায়ের দোকানে বসে, আদিবাসীদের খাটিয়ায় বসে। শহর ছেড়ে গ্রামে যান। শহরে যাঁরা আছেন, তাঁরা শহরের জন্য কাজ করে গ্রামে গিয়ে গরিব মানুষের পাশে থাকুন।'

লোকসভা নির্বাচনে আদিবাসী, তফশিলি প্রভাবিত পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলি তো বটেই, উত্তরবঙ্গের আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ির মতো জেলাতেও বিপর্যয় হয়েছে তৃণমূলের। গ্রামীণ ভোট ব্যাঙ্কে ব্যাপক ধস নেমেছে। স্থানীয় নেতাদের দুর্নীতি এবং জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়াই যে এর জন্য দায়ী তা বুঝতে দেরি হয়নি তৃণমূল নেত্রীর। সম্ভবত রাজনৈতিক পরামর্শদাতা প্রশান্ত কিশোরের ফর্মুলা মেনেই গ্রামাঞ্চলে ভোটারদের মন ফিরে পেতে আগামী ২৯ জুলাই বিশেষ কর্মসূচি ঘোষণা করতে চলেছেন তৃণমূলনেত্রী।