নবমীতে চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজোয় এসে ভোগ খাওয়ার ইচ্ছেপ্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতার ইচ্ছেমতোই তাঁর বাড়িতে পৌঁছে গেল ভোগের খিচুরি, আলুর দম পায়েস। একই সঙ্গে পাঠানো হল প্রসাদী ফলও। 

গত কয়েকবছর ধরেই জগদ্ধাত্রী পুজোয় চন্দননগরে আসেন মুখ্যমন্ত্রী। এ বারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। এ দিনও ছিল নবমী। দুপুরের পর হেলিকপ্টারে চন্দনগর স্টেডিয়ামে নামেন মমতা। প্রথমেই তিনি চলে যান বোড় কালীতলার জগদ্ধাত্রী পুজোয়। তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় বিধায়ক ইন্দ্রনীল সেন। এর পরে সেখান থেকে পাশেই বোড় সর্বজনীনের পুজোয় যান মুখ্যমন্ত্রী। দু'টি জায়গাতেই ভক্তিভরে পুজো দেন মুখ্যমন্ত্রী। 

পুজো দেওয়ার পরে মঞ্চে বক্তব্য রাখার সময়ই ভোগ খাওয়ার ইচ্ছেপ্রকাশ করেন মমতা। তাঁর বাড়িতেই ভোগ পাঠিয়ে দেওয়ার কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই মতো তিনি চলে যাওয়ার পরই গাড়িতে করে দুই হাড়ি খিচুরি, আলুর দম এবং পায়েস পাঠানো হয়। এছাড়াও প্রসাদী পাঁচ রকম ফলও দেওয়া হয় মুখ্যমন্ত্রীর জন্য। উদ্যোক্তাদের তরফে আখরোট, খেজুর এবং কিসমিসও আসে মুখ্যমন্ত্রীর কালীঘাটের বাড়িতে। মমতা অবশ্য অল্প করে ভোগ পাঠানোর জন্যই উদ্যোক্তাদের বলে এসেছিলেন। 

পরে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্বীকার করে নেন, চন্দনগরের জগদ্ধাত্রী পুজোর বিসর্জনের শোভাযাত্রা দেখেই তাঁর মাথায় কলকাতায় দুর্গাপুজোর বিসর্জন কার্নিভালের পরিকল্পনা এসেছিল। কিন্তু চন্দনগরের বিসর্জন শোভাযাত্রার তুলনায় কলকাতার কার্নিভাল অনেক পরিকল্পিতভাবে হয় বলে মন্তব্য করেন মমতা। চন্দননগরের শোভাযাত্রাকেও আগামী বছর থেকে আরও পরিকল্পনিতভাবে করার পরামর্শ দেন মুখ্যমন্ত্রী। এর জন্য বিধায়ক ইন্দ্রনীল সেনকে দায়িত্ব দেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী মনে করেন, পরিকল্পিতভাবে হলে অনেক কম সময়ে বিসর্জনের শোভাযাত্রা শেষ করা যায়। 

তবে চন্দননগরের ঠাকুর, মণ্ডপ এবং বিশেষ করে আলোকসজ্জার প্রশংসা করেন মুখ্যমন্ত্রী। নবমী হওয়ায় এমনিতেই চন্দননগরে জগদ্ধাত্রী পুজোয় ভিড় ছিল। মুখ্যমন্ত্রী আসায় কার্যত জনপ্লাবনের চেহারা নেয় জি টি রোড।