চালু হয়নি এখনও। রাজ্যে এনআরসি চালু হওয়ার আশঙ্কাতেই আত্মঘাতী হলেন এক যুবক। জলপাইগুড়ির বাসিন্দা ওই যুবকের নাম অন্নদা রায়।

পূর্ব পুরুষের নথি বা ভিটের দলিল জোগাড় করতে হন্যে হয়ে ঘুরেছেন বহু অফিস। কিন্তু তাতেও কাজ না হওয়ায় আত্মহত্যার পথে হাঁটলেন জলপাইগুড়ির বাসিন্দা। ঘটনাটি ঘটেছে জলপাইগুড়ি জেলার ময়নাগুড়িতে। এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ময়নাগুড়ি বড়কামাত এলাকার বাসিন্দা অন্নদার মোট চার বিঘা জমি রয়েছে। নিজের জমিতেই কৃষিকাজ করে সংসার চালাতেন তিনি।  কিন্তু সেই জমির প্রয়োজনীয় নথি তাঁর হাতে ছিল না। তাই বেশ কয়েকদিন থেকেই জমি হারানোর ভয় ঢুকে গিয়েছিল তাঁর মধ্যে।  শুক্রবার সকালে বাড়ির কাছেই রেল গেটের মধ্যে গামছা দিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি।

ঘটনার পরই পুলিশে খবর দেওয়া হয়। ইতিমধ্য়েই ময়নাগুড়ি থানার পুলিশ অন্নদার দেহ উদ্ধার করে জলপাইগুড়ি সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। এব্যাপারে ময়নাগুড়ি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন মৃতের পরিবার। মৃতের পরিবারের দাবি, বেশ কিছুদিন ধরেই রাজ্যে এনআরসি হওয়ার কথা শুনে আশঙ্কায় ভুগছিলেন তিনি।  
অসমে নাগরিকপঞ্জী থেকে বাদ পড়েছেন ১৯ লক্ষ মানুষ। ইতিমধ্য়েই রাজ্য়েও এনআরসি হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। রাজ্য সরকার এনআরসির বাস্তবায়ন না ঘটালে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে রাজ্যে এনআরসির দাবি জানিয়েছেন তিনি। যদিও রাজ্যে এনআরসি হতে দেবেন না বলে সরাসরি বিজেপিকে চ্য়ালেঞ্জ করেছেন মুখ্য়মন্ত্রী। বিজেপি  ওয়াক আউট করলেও বিধানসভায় এনআরসি বিরোধিতায় একমত হয়েছে তৃণমূল, কংগ্রেস ও বামেরা। সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছেও একই কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। দিল্লিতে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, রাজ্যে এনআরসির প্রয়োজন নেই বলে অমিত শাহকে জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। 

অসমে দীর্ঘদিন ধরেই এনআরসির দাবিতে আন্দোলন হয়েছে। শেষে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে জাতীয় নাগরিকপঞ্জী বানিয়েছে ফরেন ট্রাইবুনাল। যাতে ১৯ লক্ষ লোক বাদ পড়েছেন। মুখ্য়মন্ত্রীর দাবি, এই বিপুল সংখ্যক মানুষের মধ্য়ে হিন্দিভাষী,বাঙালি ছাড়াও গোর্খারা রয়েছেন।