সম্প্রীতির এক অনন্য নিদর্শন  একই বিয়ের আসরে হিন্দু-মুসলিম পাশাপাশি একটা দুটো নয় একেবারে ১০১ জোড়া পাত্রপাত্রী কঙ্কালেশ্বরী কালী মাতা কমিটির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় এই গণবিবাহ

সম্প্রীতির এক অনন্য নিদর্শন। একই বিয়ের আসরে হিন্দু-মুসলিম পাশাপাশি বিয়ের অনুষ্ঠান। একটা দুটো নয় একেবারে ১০১ জোড়া পাত্রপাত্রী। শুধু তাই নয়, ছিল এলাহি আয়োজন। প্যান্ডেল মন্ডপ থেকে শুরু করে খাওয়া-দাওয়া, বাজি পোড়ানো, এমনকী দান সামগ্রী সবই ছিল এই বিয়ের অনুষ্ঠানে। পূর্ব বর্ধমানের কাঞ্চননগর এলাকায় কঙ্কালেশ্বরী কালী মাতা কমিটির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় এই গণবিবাহ। 

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

সকাল থেকেই কাঞ্চন নগরের চত্বরে ছিল সাজো সাজো রব। সানাই বাজিয়ে উলুধ্বনি পুরোহিতের মন্ত্র উচ্চারণ এর মাধ্যমে বিবাহ সম্পন্ন হয়। অন্যদিকে মুসলিম পাত্র-পাত্রীদের তাদের ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে বিয়ের অনুষ্ঠান হয়। সকাল থেকেই চলে বিয়ের ডালার অনুষ্ঠানের কাজকর্ম। শুধু বর্ধমান নয়, অন্যান্য জেলা থেকেও পাত্র-পাত্রীরা হাজির ছিল এখানে। 

 টাউন হল থেকে ১০১ জন বরকে টোটো চাপিয়ে বাজনা বাজিয়ে শোভাযাত্রা সহকারে কাঞ্চন নগরের মণ্ডপে নিয়ে আসা হয়। শোভাযাত্রায় ছিল রণপা। সন্ধ্যাবেলায় চলে বিয়ের অনুষ্ঠান। মালাবদল থেকে সিঁদুর দান। সমস্ত নিয়ম মেনে হয় বিয়ের অনুষ্ঠান। মুসলিম পাত্র-পাত্রীরাও নিয়ম-রীতি মেনে বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। গণবিবাহের মূল উদ্যোক্তা খোকন দাস জানান, চার বছর ধরে তারা এই গণবিবাহের অনুষ্ঠান করে আসছেন। অনুষ্ঠান করে বিয়ে দেওয়ার মতো অনেকের সামর্থ্য নেই। তাই আমরা এগিয়ে এসেছি সেই ইচ্ছা পূরণ করতে। চেষ্টা করেছি সমস্ত রকমের আয়োজনের। পাত্র পাত্রীকে ১৭ রকমের উপহার সামগ্রী দেওয়া হচ্ছে। ছেলের আংটি, মেয়ের নাকছাবি থেকে শুরু করে জীবন বিমা, খাট - বিছানা, আলমারি, এলসিডি টিভি, সাইকেল, সেলাই মেশিন, এমনকী এক মাসের চাল সহ সংসার চালানোর বাজার সামগ্রী এবং রান্নার বাসন পত্র। 


বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ, বিধায়ক রবিরঞ্জন চট্টোপাধ্যায়, অনুব্রত মণ্ডল, জেলা পরিষদ এর সভাপতি শম্পা ধারা ও সহ-সভাপতি দেবু টুডু। এছাড়াও আরও অনেক অতিথি উপস্থিত ছিল। বরযাত্রী সহ প্রায় 10 হাজার মানুষের খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। এমন উদ্যোগে খুশি সকলে।