স্রেফ বিধানসভা এলাকায় জেতালে হবে না, নিজের ওয়ার্ডেও তৃণমূল প্রার্থীকে লিড দিতে হবে। তা না হলে কোন মুখে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বিধায়কের কাছে গিয়ে উন্নয়নের জন্য় বেশি টাকা চাইবেন? উন্নয়নকে হাতিয়ার করে এভাবেই খড়গপুরে দলের প্রার্থীর সমর্থনে প্রচার সারলেন আসানসোলের মেয়র ও তৃণমূল নেতা জিতেন্দ্রনাথ তিওয়ারি।

আগামী ২৫ নভেম্বর পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়গপুর বিধানসভাকেন্দ্রে উপনির্বাচন। রেলশহরে জোরকদমে প্রচারে নেমেছে সব রাজনৈতিক দলই। সোমবার সন্ধ্যায় খড়গপুর শহরের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে দলের প্রার্থী প্রদীপ সরকারের সমর্থনে পথসভা করলেন আসানসোলে মেয়র ও তৃণমূল নেতা জিতেন্দ্র তিওয়ারি।  পথসভায় রীতিমতো উদাহরণ  দিয়ে তিনি বুঝিয়ে দিলেন, তৃণমূল প্রার্থীকে জেতালে কীভাবে সাধারণ মানুষ উন্নয়নের শরিক হতে পারবেন। জিতেন্দ্র তিওয়ারি বক্তব্য, 'ধরুন খড়গপুর প্রদীপ সরকার(তৃণমূল প্রার্থী) কুড়ি হাজার ভোটে জিতলেন, কিন্তু আপনার ওয়ার্ডে দুশো ভোটে হেরে গেলেন। তাহলে আপনার কাউন্সিলর কোন মুখে উন্নয়নে জন্য বাড়তি টাকা চাইবেন! কিন্তু যদি আপনার ওয়ার্ডে বেশি ভোটে জেতান, তাহলে  তৃণমূল প্রার্থীকে বলতে পারবেন,  আমার ওয়ার্ডে বেশি ভোট পেয়েছেন, তাই আমাদের কথা বেশি করে ভাবতে হবে।' শুধু তাই নয়, এলাকার প্রাক্তন বিধায়ক দিলীপ ঘোষকে কটাক্ষ করেন আসানসোলের মেয়র। বলেন, 'উনি বলছেন গায় থেকে সোনা বেরোচ্ছে। আমি বলব, আপনি রাজনীতি সন্ন্যাস নিন অথবা বিজ্ঞানী হয়ে যান।  বড় গরু থেকে সোনা বের করুন, গোরব থেকে হিরে বের করুন। রাজনীতি আপনার জন্য় নয়।'

এরআগে লোকসভা ভোটের সময়ে আসানসোলে তৃণমূল প্রার্থী মুনমুন সেনকে জেতাতে কাউন্সিলরদের জন্য পুরস্কার ঘোষণা করেছিলেন শহরের মেয়র জিতেন্দ্র তিওয়ারি। জামুড়িয়ায় দলের এক কর্মিসভায় খোদ আসানসোলের মেয়র হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, লোকসভা ভোটে  পুর এলাকায় যদি তৃণমূল প্রার্থী লিড না পান, তাহলে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের কাউন্সিলরকে পদত্য়াগ করতে হবে।  আর লিড দিতে পারলে, ওয়ার্ডে উন্নয়নের জন্য় বেশি টাকা বরাদ্দ করা হবে। এমনকী, তাঁর ওয়ার্ডেও যদি তৃণমূল প্রার্থী যদি বেশি ভোট না পান, তাহলে তিনিও পদত্যাগ করবেন বলে ঘোষণা করেছিলেন আসানসোলে মেয়র জিতেন্দ্র তিওয়ারি। শেষপর্যন্ত অবশ্য লোকসভা ভোটে আসানসোলে বিজেপি প্রার্থী বাবুল সুপ্রিয়ের কাছে হেরে যান তৃণমূল প্রার্থী মুনমুন সেন।