কাটমানি নিয়ে কোটিপতি হয়েছেন পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি এবং তাঁর স্ত্রী। আর তারই প্রতিবাদ করে এবার দল ছাড়তে চাইলেন জেলা পরিষদের কর্মাধক্ষ। নিজের ইচ্ছের কথা জানিয়ে মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে চিঠিও দিয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের খাদ্য বিভাগের কর্মাধক্ষ জয়দেব বর্মণ। 

জয়দেববাবুর অভিযোগ, পূর্ব মেদিনীপুর জেলার শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকের পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি দিবাকর জানা নিজের এবং স্ত্রীয়ের প্রশাসনিক পদের ব্যবহার করে কাটমানি থেকেই কোটি কোটি টাকার সম্পত্তির মালিক হয়েছেন। দিবাকর বাবুর স্ত্রী তনুশ্রী জানা জেলা পরিষদের সদস্য। পঞ্চায়েত স্তরের জনপ্রতিনিধি হয়ে কীভাবে দিবাকরবাবু এবং তাঁর স্ত্রীর কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি হল, দলীয় ভাবে তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন জয়দেববাবু। ২০১৩ সালেও পঞ্চায়েত নির্বাচনে জিতেছিলেন দিবাকরবাবু এবং তাঁর স্ত্রী। ওই দু' জনের বিরুদ্ধে হিসাববহির্ভূত সম্পত্তি থাকার অভিযোগ তুলে মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং সাংসদ শিশির অধিকারীকে চিঠি লিখেছেন জয়দেব বর্মণ। তাঁর দাবি, অভিযোগের পরে দল ব্যবস্থা না নিলে তিনি সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা দেবেন। 

আরও পড়ুন- মোটা টাকা কাটমানি, বাঁকু়ড়ায় ঘেরাো তৃণমূল নেতা, দেখুন ভিডিও

জয়দেববাবুর অভিযোগ, 'দিবাকর জানা ও তাঁর স্ত্রী তনুশ্রী জানা দল এবং পদের অপব্যবহার করে কাটমানি নিয়ে টাকা জমিয়েছে। কয়েক বছরের মধ্যে এই ভাবে বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি হওয়ায় সাধারণ মানুষের কাছে তাঁদের এবং দলে গ্রহণযোগ্যতা কমে গিয়েছে। ভোট বাক্সেও তার প্রভাব পড়েছে। একজন সাধারণ নেতার এমন আর্থিক প্রতিপত্তি মেনে নিতে পারেনি মানুষ।'

যদিও এই ঘটনায় অভিযুক্ত দিবাকর জানা এবং তাঁর স্ত্রী তনুশ্রীদেবীকে ফোন করা হলেও তাঁরা ধরেননি। মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রতিক্রিয়াও পাওয়া যায়নি।