আশিষ মণ্ডল, বীরভূম:  স্পেশাল ট্রেনে 'অব্যবস্থা'য় ক্ষোভ বাড়ছে পরিযায়ী শ্রমিকদের। তার জেরেই কি ঘটল বিপত্তি? পুলিশ-প্রশাসনের নির্দেশের তোয়াক্কা না করে স্টেশন থেকে কার্যত পালিয়ে গেলেন দুশোজন। বাইরে বেরিয়ে সটান বাড়ির উদ্দেশ্যে হাঁটতে শুরু করলেন সকলে। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল বীরভূমের রামপুরহাটে।

আরও পড়ুন: গ্রামবাসীরা ঢুকতে দেয়নি, শ্মশানেই রাত কাটাচ্ছে দুই পরিযায়ী শ্রমিক

পেটের দায়ের ভিনরাজ্যে কাজ করতে যেতে হয় তাঁদের। লকডাউনের জেরে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন পরিযায়ী শ্রমিকরা। কাজকর্ম বন্ধ, রোজগার নেই। পরিযায়ী শ্রমিকদের বাড়ি ফেরানোর জন্য স্পেশাল ট্রেনের বন্দোবস্ত করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। কিন্তু ট্রেনে পর্যাপ্ত জল ও খাবারে অভাবে যাত্রীদের রীতিমতো নাকাল হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, নির্দিষ্ট স্টেশনে শ্রমিকদের নামতে দেওয়া হচ্ছে না! অন্তত তেমনই দাবি ভুক্তভোগীদের। পরিস্থিতি এমনই যে, নিরুপায় হয়ে বিভিন্ন স্টেশনে, এমনকী মাঝ-পথে চেন টেনে ট্রেন থেকে নেমে যাচ্ছেন অনেকেই। 

আরও পড়ুন: লকডাউনেও তোলা আদায়ের অভিযোগ,পুলিশের তাড়া খেয়ে ওল্টালো গাড়ি

জানা গিয়েছে, শনিবার সন্ধ্যায় কেরল থেকে পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে একটি ট্রেন আসার কথা ছিল রামপুরহাট স্টেশনে। স্টেশনে ভিনরাজ্য থেকে আগতদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা-সহ যাবতীয় ব্যবস্থাও করে রেখেছিল প্রশাসন। কিন্তু ঘটনা হল, ট্রেন আসার পর দুশোজন পরিযায়ী শ্রমিক স্বাস্থ্যবিধি তোয়াক্কা না করে হইহই করতে করতে স্টেশনের বাইরে বেরিয়ে পড়েন। এরপর কেউ কেউ ৬০ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে, তো কেউ আবার রামপুরহাট-মাড়গ্রাম রাজ্য সড়ক ধরে হাঁটা লাগান! বেশিরভাগেরই বাড়ি বীরভূম ও পড়শি জেলা মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন এলাকায়। যাঁরা স্টেশন থেকে পালিয়ে গিয়েছেন, তাঁদের কাউকে এখনও পর্যন্ত পুলিশ ধরতে পারেনি বলে জানা গিয়েছে।

শ্রমিকদের দাবি, তাঁদের কারও বাড়ি বীরভূমে, তো কারও বীরভূম লাগোয়া মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন গ্রামে। তাহলে কেন স্পেশাল ট্রেনে চেপে মালদহ কিংবা নিউ জলপাইগুড়ি যাবেন? বস্তুত, রবিবারও সাঁইথিয়ার বাতাসপুর স্টেশনে ট্রেন থামিয়ে নেমে পড়েন বেশ কয়েকজন পরিযায়ী শ্রমিক। এর আগে রামপুরহাট স্টেশনে ঢোকার মুখে ত্রিপুরাগামী একটি ট্রেনে গতি কমতেই নেমে পড়েছিলেন চারজন।