মাসের পর মাস নিখোঁজ ছেলের খোঁজে অপেক্ষা করছে পরিবার। অভিযোগ, সেই অসহায়তার সুযোগ নিয়ে তন্ত্রসাধনার নামে সামগ্রী চেয়ে হুমকি দেওয়া হয়। টাকা না দিলে কী পরিণতি হবে বলে দাবি করা হয়েছে?
নিখোঁজ ছেলেকে ফিরে পাওয়ার আশায় দিনের পর দিন অপেক্ষা করছে পরিবার। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি, পোস্টার লাগানো—কিছুই বাদ রাখেননি তাঁরা। আর পরিবারের সেই অসহায়তাকেই হাতিয়ার করে প্রতারণার অভিযোগ উঠল অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে। তন্ত্রসাধনার নামে নিখোঁজ যুবককে বাড়ি ফেরানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে ফোনে চাওয়া হল হরিণের দুধ, চামড়া-সহ একাধিক সামগ্রী। সেগুলি জোগাড় করতে না পারলে দিতে হবে সাড়ে তিন হাজার টাকা। এমনকী, টাকা পাঠানোর জন্য পাঠানো হয় স্ক্যানার কোডও। ঘটনায় আতঙ্কিত পরিবার দ্বারস্থ হয়েছে সিউড়ি থানার।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সিউড়ি থানার লাঙুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা লাল্টু বাউড়ির ২২ বছরের ছেলে রঞ্জন মানসিক অসুস্থ। কয়েক মাস আগে বর্ধমানে চিকিৎসা করাতে গিয়ে স্টেশন থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যায় সে। তারপর থেকে ছেলের খোঁজে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরেছেন পরিবারের সদস্যরা। মেলা-সহ একাধিক জায়গায় রঞ্জনের ছবি ও যোগাযোগের নম্বর দিয়ে পোস্টারও লাগানো হয়। কিন্তু এত চেষ্টা সত্ত্বেও এখনও ছেলের কোনও সন্ধান মেলেনি।
অভিযোগ, শনিবার সকালে একটি অচেনা নম্বর থেকে রঞ্জনের বাবা লাল্টু বাউড়ির কাছে ফোন আসে। ফোনের ওপার থেকে দাবি করা হয়, তন্ত্রসাধনার জন্য হরিণের দুধ, চামড়া-সহ কয়েকটি বিশেষ সামগ্রী প্রয়োজন। সেই সামগ্রীগুলি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জোগাড় করে দিতে হবে। অন্যথায় রঞ্জনকে বিক্রি করে দেওয়া হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ পরিবারের।
আরও অভিযোগ, প্রয়োজনীয় সামগ্রী জোগাড় করতে না পারলে সাড়ে তিন হাজার টাকা দিতে বলা হয়। টাকা পাঠানোর জন্য পরিবারের মোবাইলে একটি স্ক্যানার কোডও পাঠানো হয়। ছেলের সন্ধান না পেলেও এমন ফোন ও হুমকিতে স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
পরিবারের সন্দেহ, নিখোঁজ রঞ্জনের খোঁজে বিভিন্ন জায়গায় লাগানো পোস্টারে থাকা ফোন নম্বর থেকেই অভিযুক্তরা যোগাযোগ করে থাকতে পারে। তবে ঠিক কীভাবে ওই নম্বর তাঁদের হাতে পৌঁছল, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
লাল্টু বাউড়ির অভিযোগ, ফোন করে বারবার হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং তাঁকে জ্বালাতন করা হচ্ছে। অথচ তাঁর ছেলে কোথায় রয়েছে, সে বিষয়ে কোনও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ দেওয়া হচ্ছে না। রঞ্জনের কাকা রবিন বাউড়িও জানান, সকাল ১১টার মধ্যে চাহিদামতো সামগ্রী পৌঁছে দিলে রঞ্জনকে ফিরিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ছেলের অবস্থান সম্পর্কে কোনও প্রমাণ দেখানো হয়নি।
ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে শেষ পর্যন্ত সিউড়ি থানার দ্বারস্থ হয়েছে রঞ্জনের পরিবার। ইতিমধ্যে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, নিখোঁজ ছেলেকে ফিরে পাওয়ার জন্য পরিবারের মরিয়া চেষ্টা ও অসহায়তার সুযোগ নিয়ে টাকা হাতানোর উদ্দেশ্যেই এই ফোন করা হয়ে থাকতে পারে। তন্ত্রসাধনার নামে ভয় দেখিয়ে প্রতারণার অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যে নম্বর থেকে ফোন এসেছিল, সেটির সূত্র ধরে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন আধিকারিকরা।
ছেলের কোনও খোঁজ না পেয়ে এমনিতেই দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে বাউড়ি পরিবারের। তার উপর এই ধরনের ফোন ও হুমকিতে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। এখন পুলিশের তদন্তের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
