কাজের পরিবেশ ভালো নয়, নিরাপত্তার অভাব বোধ করছেন। কুয়েত-এ চাকরি করতে দিয়ে বিপাকে পড়েছেন এক বাঙালি দম্পতি। বাড়ির লোকের অভিযোগ, চাকরি ছেড়ে দিতে চাওয়ায় তাঁদের পাসপোর্ট-ভিসা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এমনকী, যে বাড়িতে থাকতেন, বের করে দেওয়া হয়েছে সেই বাড়ি থেকেও। বিদেশে এখন কপর্দকশূন্য অবস্থায় দিন কাটছে ওই দম্পতির। বিপদের সময়ে পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন আসানসোল-এর বিজেপি সাংসদ ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়। দ্রুত সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

আসানসোলের মহিশালী কলোনির বাসিন্দা সূর্যসারথী বাগ। চার বছর ধরে কুয়েতে চাকরি করছেন তিনি। বছর দেড়েক আগে বিয়ে করেন সূর্যসারথী। তাঁর স্ত্রী মহাশ্বেতাও আসানসোলেরই মেয়ে। পরিবারের লোকেরা জানিয়েছেন, বিয়ের পর ডিসেম্বরের মাঝমাঝি স্ত্রীকে ফের কুয়েতে চলে যান ওই যুবক। সেখানে নতুন একটি হোটেলে কাজ যোগ দেন। কিন্তু নতুন চাকরিতে মানিয়ে নিতে পারছেন না সূর্য। বাবা অচিন্ত্যকুমার বাগ বলেন, কুয়েতে যে হোটেলে কাজ করেন তিনি, সেখানকার লোকেরা নানাভাবে ভয় দেখাচ্ছেন। নিরাপত্তার অভাব বোধ করছেন সূর্য। চাকরি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। আর তাতেই ঘটেছে বিপত্তি। পরিবারের লোকেরা দাবি, ভিডিও কলে সূর্য জানিয়েছেন, তাঁর ও তাঁর স্ত্রী-র পাসপোর্ট ও ভিসা আটকে রেখেছে হোটেল কর্তৃপক্ষ। এমনকী, কুয়েতে যে বাড়িতে থাকতেন ওই দম্পতি, সেই বাড়ি থেকেও তাঁদের বের করে দেওয়া হয়েছে। এদিকে পাসপোর্ট না থাকায় বিদেশে ওই বাঙালি দম্পতিকে কেউ সাহায্যও করতে চাইছে না বলে অভিযোগ।

জানা গিয়েছে, কুয়েতে ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন সূর্যসারথী। তাঁকে লেবার কোর্টে মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।  কিন্তু ওই দম্পতির কাছে পর্যাপ্ত টাকা নেই! শেষপর্যন্ত আসানসোলের সাংসদ ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়-র সঙ্গে যোগাযোগ করেন কুয়েত-এ কর্মরত ওই বাঙালি যুবকের পরিবারের লোকেরা। সাংসদের আপ্ত সহায়ক ধর্মেন্দ্র কৌশল জানিয়েছেন, 'গোটা ঘটনাটি কুয়েতে ভারতীয় দূতাবাসকে জানানো হয়েছে। সোমবারের মধ্যে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।'